সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৮ জানুয়ারি || ধলাই জেলার সালেমা থানাধীন এলাকায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সালেমা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় গৃহবধূ লিপিকা শর্মার দেহ। ঘটনার নৃশংসতায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। পরিবারের অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিহত লিপিকার বাপের বাড়িতে পৌঁছান ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে নিহতের পিতা বাসুদেব শর্মার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিপিকা শর্মার মৃত্যু ঘিরে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ। পরিবারও এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে জেলা সভাধিপতি সুস্মিতা দাস বলেন,
“একজন গৃহবধূর এভাবে মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দোষীরা কোনোভাবেই রেহাই না পায়। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
এদিন তিনি শোকাহত পরিবারের হাতে প্রাথমিক সহযোগিতা হিসেবে আর্থিক অনুদানও তুলে দেন।
এরপর সভাধিপতি সালেমা ব্লকের ডাববাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় যান। সেখানে সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা দাসের অকাল মৃত্যু হয়। বর্ষার পিতা বাবুল দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং ওই পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এদিনের কর্মসূচিতে জেলা সভাধিপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সালেমা আরডি ব্লকের বিএসি চেয়ারম্যান বিমল দেববর্মা-সহ স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।
এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, লিপিকা শর্মা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত কিনারা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি তুলেছেন।
