সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৯ ফেব্রুয়ারী || রাইফেল কাঁধে নিয়ে উগ্রবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার আজ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত—এমনই এক মর্মান্তিক বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রাক্তন এসপিও উষা রঞ্জন কপালির পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উষা রঞ্জন কপালি ২০০৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্পেশাল পুলিশ অফিসার (এসপিও) পদে যোগদান করেন এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে গণ্ডাছড়া থানায় দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে অসুস্থ অবস্থায় কুলাই জেলা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী নিহা রানি কপালি ও দুই কন্যাসন্তান রেখে যান।
মৃত্যুর পর থেকে পরিবারটি কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহা রানি কপালি। তিনি আর্থিক অনুদান ও একটি সরকারি চাকরির দাবিতে ধলাই জেলার পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানান। তবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ধলাই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, ২৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে জারি হওয়া ত্রিপুরা সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী মৃত এসপিওদের পরিবার ‘ডাই-ইন-হারনেস’ (Die-in-Harness) স্কিমের আওতাভুক্ত নয়। ফলে চাকরির আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এসপিওরা নিয়মিত পুলিশ কর্মীদের মতোই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অথচ তাঁদের মৃত্যুর পর পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১২২ জনেরও বেশি এসপিওর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, তাঁদের অধিকাংশ পরিবারই চরম আর্থিক সংকটে দিনযাপন করছেন। নির্বাচন এলে নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে সেই সহায়তা পৌঁছায় না বলেই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
উষা রঞ্জন কপালির পরিবারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি কার্যত নিঃসহায় হয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যাঁরা রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের পরিবার কি এভাবেই অবহেলিত থাকবে?
স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, মৃত এসপিওদের পরিবারের জন্য বিশেষ পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি জীবিত এসপিওদের জন্যও সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় এই নীরব বঞ্চনার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে মত স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের।
