গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ ফেব্রুয়ারী || ব্যাপক পুলিশি তৎপরতায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ কান্ডে মধ্য রাতেই উদ্ধার দুই অপহৃত ওএনজিসি আধিকারিক। পুলিশকে দেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় অপহরণকারীরা। যদিও অপহরণের ঘটনা নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন। প্রাথমিকভাবে অপহরণের ঘটনাটি সশস্ত্র বাহিনীর দ্বারা সংগঠিত হয়েছে বলে প্রচার পেলেও, ত্রিপুরা পুলিশের অভিযানে দুই ওএনজিসি আধিকারিক উদ্ধার হওয়ার পর গোটা বিষয়টিকে শুধুই অপহরণ বলে মানছে পুলিশ। এই অপহরণ কান্ড কি শুধুমাত্র টাকা হাতানোর গ্যাঙ দ্বারা সংগঠিত নাকি ঠিকেদারদের মধ্যেই কোন মাফিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নিয়ে অপহরণ কান্ড সংগঠিত করেছে, তা হয়তো পরবর্তী সময়ে তদন্তক্রমে পুলিশ প্রশাসন প্রকাশ্যে আনবে বলে জনগণের প্রত্যাশা।
এদিকে রাজ্যের গোমতী জেলার অন্তর্গত শিলাছড়ি থানার আইলমারা এলাকায় ওএনজিসির দুই আধিকারিককে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা নাগাদ অপহরণের গুঞ্জন ঘিরে শনিবার সন্ধ্যা থেকে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হিমাচল প্রদেশ-এর বাসিন্দা এবং অপরজন দক্ষিণ ভারতের রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁরা দুজনেই অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)-এর সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে পরবর্তীতে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ বাইখোরা এলাকায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে দেখে অপহরণকারীর পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অপহরণ কান্ডটি অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। তবে জনগণের দাবি, ঘটনাটি মূলত ঠিকাদার গোষ্ঠীগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এবং অপহরণের নাটকীয়তা তৈরি করা হয়েছিল বলেই গুঞ্জন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তবে গোটা ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু অপহরণের পেছনের সত্যিটা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ বলেই মনে করছেন জনসাধারণ।
