গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ ফেব্রুয়ারী || বারবার একই কায়দায় মাদক কারবারের মালিককে বাদ দিয়ে বহনকারীকে আটক করছে পুলিশ। এনিয়ে জনমনে কৌতূহল বিরাজ করছে। খোয়াই জেলায় নেশা, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই উঠছে নতুন প্রশ্ন। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, অভিযানে মূলত ছোট কারবারিদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত মাষ্টারমাইন্ডরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জনগণের দাবি, বরাবরই মদের মালিক বা বড় সরবরাহকারীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বহনকারী বা খুচরা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কয়েকদিন আগেও ধৃত এক ব্যক্তিকে একই ধরনের ঘটনায় আটক করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, “কার হয়ে কে মদ বহন করছে—তা এলাকার মানুষ জানে, কিন্তু প্রশাসন কি জানে না?” এই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
আরও অভিযোগ উঠেছে যে কোথাও কোথাও আসল মদ আড়াল করে নকল বা জল মেশানো বাংলা মদ ধরার ঘটনাকে সামনে এনে ‘অভিযান’ দেখানো হচ্ছে। ফলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—পুরো বিষয়টির পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ কাজ করছে কি না। অনেকেই সরাসরি বলছেন, “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।”
এদিকে ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাম্বুরা রোড এলাকায় এক অভিযানে আলয় দে (৫৬), পিতা প্রয়াত সাধন দে, বাসিন্দা জাম্বুরা, থানা খোয়াই—কে গ্রেফতার করা হয়। খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘স্পেশাল সিভিল টিম’ এবং খোয়াই মহিলা থানার মহিলা পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে এই অভিযান চালান। গত ৩১শে জানুয়ারী একই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। মাস না ফুরোতেই আবার একই ব্যক্তি, একই দায়ে আটক। এনিয়েই জনমনে কৌতূহল বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখনো একই জায়গায়—খোয়াই কি কখনো দেখবে বড় চক্রের হোতাদেরও আইনের আওতায় আসতে?
স্থানীয়দের মতে, নেশা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন মূল চক্র ভেঙে দেওয়া। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ভবিষ্যতে কতটা বড় পদক্ষেপ নেয়।
