গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ ফেব্রুয়ারী || চাকুরীচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২০ জনের মতো প্রয়াত হয়েছেন। তারা পৃথিবীতে থেকে চির বিদায় নিয়েছেন এক বুক আশা নিয়ে। একদিন হয়তো চাকুরীটা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কারন ১০৩২৩ এর চাকুরী নীয়মনীতির বাইরে, রাজনীতির প্যাঁচে স্তব্ধ হয়ে আছে। যদি আইনি জটিলতা থেকেই থাকতো তবে তা প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে যেতোই না।
এদিকে সরকারি চাকরি হারানোর দীর্ঘ অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খোয়াইয়ের প্রাক্তন ‘১০৩২৩’ শিক্ষক সুজিত দেববর্মা। প্রায় ৭–১০ বছর সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকার পর, কোনও দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগ বা ব্যক্তিগত অভিযোগ ছাড়াই চাকরি হারাতে হয় তিনি সহ প্রায় ১০৩১৯ জন শিক্ষককে। সেই ক্ষত বয়ে বেড়িয়েও থেমে থাকেননি তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে সুজিত দেববর্মার সাফল্য আলাদা তাৎপর্য বহন করে। তিনি ঐতিহ্যবাহী গাঁজানো মাছজাত পণ্যকে আধুনিক ব্যবসায়িক কাঠামোয় রূপ দিয়ে ‘বারকুচুকস’ (Barkuchuks) নামে একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলেছেন। এটি ত্রিপুরার প্রথম নিবন্ধিত ফারমেন্টেড ফিশ স্টার্টআপ হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে।
সম্পূর্ণ অর্গানিক ও হাতে তৈরি পদ্ধতিতে উৎপাদিত এই পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে সংস্থার মাসিক টার্নওভার আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। উদ্যোগটিতে সরাসরি ১২ থেকে ১৩ জন কর্মসংস্থান পেয়েছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উদ্ভাবনী এই প্রয়াসকে স্বীকৃতি দিয়ে তথ্য প্রযুক্তি অধিদপ্তর, ত্রিপুরা সরকার-এর মাধ্যমে প্রণীত ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি (Tripura Startup Policy)-র আওতায় স্টার্টআপটিকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই নীতির অধীনে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ পান, যা রাজ্যে টেকসই ও উদ্ভাবনী ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়ক।
সুজিত দেববর্মার সাফল্য প্রমাণ করে, ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে পারলে গ্রামীণ ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাতেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। চাকরি হারানোর বেদনা থেকে উঠে এসে তাঁর এই আত্মনির্ভরতার যাত্রা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
উল্লেখ্য, ২৭শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য সুশান্ত চৌধুরী এক বক্তব্যে দাবি করেন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোনও ত্রুটি ছিল না; বরং নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বহু প্রাক্তন শিক্ষক এখনও ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন।
