সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারী || গন্ডাছড়া বন দপ্তরের উদ্যোগে এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সমর্থিত ‘প্রজেক্ট ফর সাসটেইনেবল ক্যাচমেন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট ইন ত্রিপুরা’ (SCATFORM)-এর সহযোগিতায় ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার নারায়ণপুর টাউন হলে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি বা কৃষি-বনায়নের প্রচার, যা কৃষি ও বনায়নের সমন্বয়ে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতী সুস্মিতা দাস। তিনি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পাশাপাশি একটি চারা গাছে জল সিঞ্চন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। উদ্বোধকের ভাষণে তিনি বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃষি-বনায়নের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি শুধু মাটির উর্বরতা বজায় রাখে না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটি ক্ষয় রোধ এবং কৃষক পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন SCATFORM প্রকল্পের সিইও তথা প্রোজেক্ট ডিরেক্টর শ্রীমতী বানুমতী জি, আইএফএস। বিশেষ অতিথি ছিলেন DCM দিলীপ দেববর্মা। সমগ্র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডুম্বুরনগর আরডি ব্লকের বিএসি চেয়ারম্যান শ্রী প্রেম সাধন ত্রিপুরা। ধলাই বন জেলার জেলা পরিচালনা ইউনিটের প্রধান সঙ্গীতা আবা খাতাল, আইএফএস-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, জুমিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য, বন বিভাগের আধিকারিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের বৈজ্ঞানিক ও টেকসই চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি গাছ রোপণে উৎসাহিত করা। কৃষি-বনায়নের মাধ্যমে ফসলের সঙ্গে ফলজ, কাঠজাতীয় ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে আয় বৃদ্ধি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি। SCATFORM প্রকল্প ত্রিপুরায় জুম চাষ হ্রাস, বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধলাই জেলার মতো উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পরিবেশ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
