গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ ফেব্রুয়ারী || বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের দিয়ে বিএলও’র কাজ করানো হচ্ছে। সার্ভে সহ অন্যান্য কাজ করানো হচ্ছে। কিন্তু ২০১৮ সালের পূর্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি হলেও, ২০১৮-র পর থেকে অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে কার্যত একবারই সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে—আজ খোয়াইতে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকারা। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দপ্তরে কাজের পরিধি বাড়লেও অনারিয়ামের ক্ষেত্রে কোনও বাস্তবসম্মত পুনর্বিবেচনা হয়নি।
কর্মীদের একাংশের দাবি, চুক্তিবদ্ধ থেকে নিয়মিতকরণ করতে হবে। যদি অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের গ্রুপ—সি এবং সহায়িকাদের গ্রুপ–ডি কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে বেসিক পে আনুমানিক ২০,৭০০ থেকে ২৬,০০০–২৭,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে এইচআরএ, ডিএ, মেডিক্যাল ভাতা প্রভৃতি যুক্ত হলে মোট প্রাপ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সহকর্মীদের মধ্যে যাঁরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে পারিশ্রমিকের বৈষম্যও দূর হবে বলে দাবি।
অভিযোগ, দপ্তরীয় নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত কাজ—যেমন বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়—করতে হচ্ছে, অথচ পারিশ্রমিকে তার প্রতিফলন নেই। কর্মীদের বক্তব্য, সমকাজে সমবেতন নীতি অনুসারে এবং বিভিন্ন আদালতের নির্দেশনার আলোকে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা উচিত।
তাঁদের মূল দাবিগুলি হলো—
১। অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের গ্রুপ–সি এবং সহায়িকাদের গ্রুপ—ডি হারে বেতন নির্ধারণ।
২। নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট চালু করা।
৩। নিয়মিত কর্মচারীদের মতো ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদান।
৪। গ্র্যাচুইটি ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা।
৫। দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি ও স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা।
কর্মীদের দাবি, সমাজে সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা। বিশেষ করে মার্চের অধিবেশনের মধ্য দিয়ে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী ও সহায়িকারা।
