আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ইরান, ০১ মার্চ || ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রায় ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রভাবশালী নেতার অধ্যায়ের অবসানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তেহরানে নিজস্ব কম্পাউন্ডে দেশের শীর্ষ সামরিক, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের সময় ভয়াবহ বাঙ্কার বোমা হামলায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। একই ঘটনায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাকে ঘিরে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে—এই বৈঠকের তথ্য নাকি ভেতর থেকেই ফাঁস হয়েছিল, যা ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানী তেহরানে দেখা যায় এক অদ্ভুত দ্বৈত চিত্র। কোথাও রাষ্ট্রীয় শোক, কোথাও আবার উল্লাস। সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি ভবন ও মসজিদে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে একই সময়ে কিছু এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে।
দেশের বাইরে, বিশেষ করে লন্ডন ও লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ একে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা বলছেন, কেউ আবার আশঙ্কা করছেন নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
