আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ মার্চ || কৃষক, জুমিয়া ও ক্ষেতমজুরদের জীবনের জরুরি ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজ্যে আজ বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় সারা ভারত কৃষক সভা, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ ও ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার রাজধানী আগরতলায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণ করতে রাজ্যে উপস্থিত হন সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরি, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা এবং ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সম্পাদক শ্যামল দে সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
এদিন মিছিল শুরু হওয়ার পর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভা ভবনের দিকে অগ্রসর হন। পরে রাজবাড়ি উত্তর গেটে পুলিশ পুনরায় তাদের বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিধানসভা অভিযান থেকে আন্দোলনকারীরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
গ্রামসেবক কেন্দ্রগুলোতে কৃষক ও জুমিয়াদের জন্য পর্যাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবস্থা করা, সমস্ত জলসেচ প্রকল্প কৃষি মরশুম জুড়ে সচল রাখা, এমজিএনরেগা আইন বহাল রেখে ২০০ দিনের কাজ ও দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করা।
এছাড়াও তারা দাবি করেন, সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনের মাধ্যমে এডিসিকে অধিক ক্ষমতা ও অর্থ প্রদান, অবিলম্বে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা, ডঃ স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী C2+50% ফর্মুলায় ধান ক্রয় এবং প্রতিটি ব্লকে ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও ঋণ মকুব, বন্য পশুর আক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, জুম চাষে বিনামূল্যে সহায়তা, রাবার চাষীদের ভর্তুকি, সীমান্তবর্তী জমির ফসল নিরাপদে তোলার ব্যবস্থা এবং বনসংরক্ষণ আইন সংশোধন করে কর্পোরেটদের হাতে জমি হস্তান্তর বন্ধ করার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়।
আন্দোলনকারীদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
