নেশার মারণ থাবায় ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ শহরবাসী

গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ মে || প্রশাসনের নাকের ডগায় খোদ জেলা প্রশাসনের খাসতালুক অফিসটিলা এলাকায় এক নাবালিকা হেনস্থার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক দাগি অপরাধীর হাতে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির এই ঘটনায় খোয়াই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় ছাত্রীটি রক্ষা পেলেও, খবর দেওয়ার দীর্ঘ সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার খোয়াই অফিসটিলা রোডে এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং তথা হেনস্থা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে রাজন তাঁতি নামে এক যুবক। খোয়াই চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা এই রাজন একজন পরিচিত নেশাগ্রস্ত এবং দাগি অপরাধী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এর আগেও চুরি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক ঘটনায় সে পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল। অভিযোগ, এদিন নেশার ঘোরে সে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের মতে, খোয়াই শহর এখন কার্যত নেশার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অলিগলিতে মাদক কারবারিদের দাপট বাড়লেও পুলিশের নজরদারি আগের তুলনায় অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে।
শহরবাসীর স্পষ্ট অভিমত, ছিঁচকে নেশাখোরদের ধরে সাফল্যের খতিয়ান সাজিয়ে লাভ নেই। পুলিশ যদি সৎ সাহস থাকে তবে প্রকৃত মাদক কারবারিদের গারদে পুরে দেখাক। জনগণের দাবি, নেশার কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের যে তীব্র অভিযান একসময় পরিচালিত হতো, তা অবিলম্বে পুনরায় শুরু করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বর্তমানে ধৃত রাজন তাঁতি পুলিশি হেফাজতে থাকলেও, প্রশাসনের এই গা-ছাড়া মনোভাব ও ধীরগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*