গন্ডাছড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এসপিও জওয়ানের পরিবারের পাশে সহকর্মীরা, উঠল সরকারি উদাসীনতার প্রশ্ন

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১১ মে || নির্বাচনী ডিউটি শেষে থানায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এসপিও জওয়ান অজেন্দ্র ত্রিপুরার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তাঁর সহকর্মীরাই। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে শোকসন্তপ্ত পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এসপিও সংগঠনের সদস্যরা। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে উঠে এসেছে ত্রিপুরার এসপিও জওয়ানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ।
জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে গন্ডাছড়া থানায় ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার রথপাড়ার বাসিন্দা অজেন্দ্র ত্রিপুরার। প্রায় ২০ বছর ধরে এসপিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারালেও তাঁর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসপিও সংগঠনের নেতৃত্বে অবনি শীল, ইন্দ্র মনি, দীপঙ্কর দাস, হীরা মোহন দেবনাথ সহ বহু সহকর্মী। তাঁরা জানান, একজন সহকর্মীর মৃত্যুতে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র সহকর্মীদের চাঁদার উপর নির্ভর করে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ চলতে পারে না বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
মৃত জওয়ানের স্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “২০ বছর সরকারের অধীনে কাজ করার পরও স্বামীর মৃত্যুর পরে পরিবারকে ন্যূনতম নিরাপত্তা বা সহায়তা দেওয়া হয়নি। এখন চারজনের সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।”
এসপিও সংগঠনের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে বহু এসপিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব, বেতন কাঠামো, বীমা বা মৃত্যুকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আজও নিশ্চিত হয়নি। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৭ জন এসপিও বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ায়নি কোনো সরকার।
ত্রিপুরার বিভিন্ন থানা, আউট পোস্ট, নির্বাচন, টহলদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে পুলিশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এসপিও জওয়ানরা। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের অনেককেই দাপ্তরিক কাজের বাইরে ব্যক্তিগত নানা কাজেও ব্যবহার করা হয়। মাস শেষে সামান্য ভাতায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অধিকাংশ পরিবারকে।
২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের সময় এসপিওদের চাকরি নিয়মিতকরণ, বেতন বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রশাসনিক কাজে এসপিওদের উপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়লেও তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও উপেক্ষিত। ফলে অজেন্দ্র ত্রিপুরার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে—যাঁরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাজ করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কে নেবে?

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*