আপডেট , আগরতলা, ১১ মে || ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স (BANAE)-এর উদ্যোগে গত শনিবার আগরতলার সুকান্ত অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল পূর্বাঞ্চলীয় কনভেনশন “BANAE QUEST 2026”। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক আধিকারিক, সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সম্মেলন প্রাঙ্গণ। সামাজিক ন্যায়, সাংবিধানিক অধিকার, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে সামনে রেখেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকেই সদস্যদের নিবন্ধন পর্ব শুরু হয়। পরে সংবিধানের বই এবং ভারতরত্ন ড. বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহর পরিক্রমা করে। ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা ড. আম্বেদকরের আদর্শকে সামনে রেখে একটি বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংবিধানিক চেতনা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবাধিকার, সংরক্ষণ নীতি ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে BANAE-এর জাতীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এন. কে. সোনারে সংগঠনের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৬৯ সালে নাগপুরের VNIT-এর কয়েকজন প্রকৌশল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে ১৯৮৮ সালে এটি জাতীয় সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই সময় থেকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংরক্ষণ নীতি বাস্তবায়ন এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে BANAE নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
সম্মেলনে “Pay Back to Society” কর্মসূচির মাধ্যমে মেধাবী ছাত্রছাত্রী ও সফল উদ্যোক্তাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি NLU, NIT আগরতলা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত প্রকাশ করেন অতিথিরা।
দিনভর অনুষ্ঠিত দুটি কারিগরি অধিবেশনে প্রকৌশলী, অধ্যাপক, অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মানবাধিকার, শিক্ষা সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ভবিষ্যতের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের তফসিলি জাতি কল্যাণ, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস, তপন দাস, আইএএস, অধ্যাপক প্রিয়নাথ দাস, ইঞ্জিনিয়ার কে. পি. সিং, ইঞ্জিনিয়ার চিন্নাসামি রাজেন্দ্রন, ইঞ্জিনিয়ার অমূল্য জমাতিয়া, ইঞ্জিনিয়ার জীবন দেববর্মা, ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ দাস, ইঞ্জিনিয়ার আরেপল্লে দরগাইয়া সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
সম্মেলনের শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলন পূর্বাঞ্চলে BANAE-এর সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক উন্নয়ন ও সাংবিধানিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
