পিতার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, থানায় পাল্টা অবস্থান পরিবারের — সুষ্ঠ তদন্তের দাবী

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৬ মার্চ || শান্তির বাজার মহকুমার বাইখোড়া এলাকায় এক পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত থানার দারস্থ হন পরিবারের সদস্যরাও।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাইখোড়া এসএসবি ক্যাম্প সংলগ্ন মরনসুর পাড়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র মিত্র বিলোনিয়া থানায় তাঁর সহধর্মিণী, মেয়ে ও ছেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুলাল চন্দ্র মিত্রের পরিবারের সদস্যরা বাইখোড়া থানায় গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মেয়ে, ডাক্তার রাখি মিত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, তাঁর পিতার আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি দাবি করেন, তাঁর পিতা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাসে অভ্যস্ত। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত দুলাল চন্দ্র মিত্র বর্তমানে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে লিভারজনিত জটিলতার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও রয়েছে। এই কারণেই তিনি পূর্বে বহিঃরাজ্যেও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান রাখি মিত্র।
রাখি মিত্রের অভিযোগ, এই শারীরিক সমস্যাজনিত লক্ষণকেই মারধরের চিহ্ন হিসেবে দেখিয়ে তাঁর পিতা মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই চাওয়া হয়েছে যাতে দুলাল চন্দ্র মিত্র মদ্যপান থেকে বিরত থেকে সুস্থ জীবনযাপন করেন। তাঁর চলাফেরায় পরিবারের কেউ কোনো বাধা দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের মতে, দুলাল চন্দ্র মিত্র নিজেই অটো রিজার্ভ করে বিলোনিয়া থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন, যা প্রমাণ করে তাঁর চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না।
বাইখোড়া থানায় দীর্ঘ সময় আলোচনা চলার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাখি মিত্র জানান, যেখানে মামলা হয়েছে, সেখানে আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলুক এবং প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে।
এদিকে, এক পিতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং পাল্টা অবস্থানকে ঘিরে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পিতার সুস্থতা কামনা করেই সন্তানদের থানায় আসতে হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই সংবেদনশীল পারিবারিক ঘটনার তদন্তে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*