গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ এপ্রিল || ত্রিপুরার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন। মোহনপুরের পবিত্র মাটিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত এবং ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নল্লু’র গৌরবময় উপস্থিতিতে উদযাপিত হলো এক মহিমান্বিত অনুষ্ঠান। মোহনপুরস্থিত চিন্ময় মিশন স্কুল প্রাঙ্গণে ১৫-ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একক-শিলা গ্রানাইট পাথরে নির্মিত ‘মা সৌন্দর্য চিন্ময়ী’র মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পবিত্র কুম্ভাভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা ও মন্ত্রী রতনলাল নাথ সহ রাজ্যের বিশিষ্ট গুণীজনরা।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বলেন, “উন্মুক্ত ও মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত এই মূর্তিকে ঘিরে রয়েছে শ্রী আদি শংকরাচার্যের রচিত অমর ‘সৌন্দর্য লহরী’র শ্লোক ও মূল্যবান বাণী সমন্বিত ২৭টি স্তম্ভ। এই স্থাপত্য আমাদের শুভ চিন্তনের বিকাশ ও মহাজাগতিক সংযোগ সম্পর্কে ভাবিত হতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই পবিত্র স্থানটি আগামী দিনে শিক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্মিকতা, চিন্তন ও সাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হবে।
মোহনপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী রতনলাল নাথ এই মুহূর্তকে ‘অলৌকিক
আভা’র সাথে তুলনা করে বলেন, “শ্রদ্ধেয় মোহন ভাগবতজীর পদার্পণে এই ভূমি ধন্য হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির কোলে এই পবিত্র তীর্থ আগামী দিনে জ্ঞান, ভক্তি ও চেতনার এক দীপ্ত দিগন্ত উন্মোচন করবে।” তিনি সকলের জীবনে শান্তি ও শুভবোধের আলো ছড়িয়ে পড়ার জন্য মায়ের চরণে প্রার্থনা জানান।
উল্লেখ্য, এই মা সৌন্দর্য চিন্ময়ীর মন্দিরটি স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও অনন্য। তামিলনাড়ু থেকে আনা ২৭টি কৃষ্ণবর্ণের শিলাস্তম্ভ হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের ২৭টি নক্ষত্রের প্রতীক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষত্বের বিষয় হলো, মূর্তির ওপর কোনো কৃত্রিম ছাদ রাখা হয়নি, যা সরাসরি মহাজাগতিক শক্তির সাথে সংযোগের এক আধ্যাত্মিক বার্তা বহন করে।
এদিনের এই পুণ্য লগ্নে রাজ পরিবারের সদস্য তথা রাজ্যপাল যীষ্ণু দেববর্মণ, প্রদ্যুৎ মাণিক্য দেববর্মা এবং প্রাক্তন সাংসদ মহারাণী বিভু কুমারী দেবী সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আদি শংকরাচার্য জয়ন্তীর এই পুণ্য তিথিতে নেপাল থেকে আগত শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের দ্বারা এই পবিত্র কুম্ভাভিষেক সুসম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মোহনপুর ও সংলগ্ন এলাকায় এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
