বিদেশ ফেরত যুবকের কৃষিতে সাফল্য: মাশরুম ও ড্রাগন ফল চাষে মাসে লক্ষাধিক আয়, কর্মসংস্থান ১০ জনের

আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ২৭ জুন || ২৭শে জুন
বিদেশে চাকরির মোহ কিংবা সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ ত্রিপুরার হৃষ্যমুখ ব্লকের জয়পুর এলাকার যুবক ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক। কুয়েতে চার বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি শুরু করেন মাশরুম ও ড্রাগন ফলের সমন্বিত চাষ। বর্তমানে এই উদ্যোগ থেকেই তিনি প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন এবং হয়েছেন একজন সফল স্বনির্ভর কৃষি উদ্যোক্তা।
পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে প্রায় আট বছর আগে মাত্র ২০০টি বেড (ব্যাগ) দিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেছিলেন ইন্দ্রজিৎ। নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের ফলে বর্তমানে তাঁর খামারে মাশরুমের বেডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজারে। উৎপাদন আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও ৫ হাজার বেড বসানোর জন্য নতুন শেডও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছেন তিনি।
মাশরুম চাষের পাশাপাশি গত তিন বছর ধরে ড্রাগন ফলের চাষও করছেন ইন্দ্রজিৎ। বর্তমানে তাঁর বাগানে রয়েছে প্রায় ২৩০টি পরিপক্ব ড্রাগন ফলের গাছ, যা থেকে নিয়মিত ভালো ফলন মিলছে।
ইন্দ্রজিতের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি তাঁর ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি। মাশরুম চাষ শেষে যে অবশিষ্টাংশ সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়, সেটিকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নতমানের জৈব সারে রূপান্তর করছেন তিনি। সেই জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে তাঁর ড্রাগন ফলের বাগানে। ফলে একদিকে যেমন রাসায়নিক সারের খরচ কমেছে, অন্যদিকে ফলের উৎপাদন ও গুণগত মানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইন্দ্রজিতের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে স্থানীয় প্রশাসনও। হৃষ্যমুখ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জৈব সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করেছেন ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক। তাঁর খামারে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন, যার মাধ্যমে একাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। ফলে এলাকার বেকার যুবকদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন আত্মনির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, পরিকল্পিত পরিশ্রম এবং নতুন চিন্তাভাবনা থাকলে কৃষিক্ষেত্রেও সফল হওয়া সম্ভব। তাঁর এই সাফল্যের গল্প আজ দক্ষিণ ত্রিপুরার যুবসমাজের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*