ত্রিপুরায় স্টার্টআপে নতুন দিগন্ত, চালু T-RISE পোর্টাল; উদ্যোক্তাদের ২.৭২ কোটি টাকার সহায়তা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ আগস্ট || ত্রিপুরায় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত “Building a Unicorn in Tripura” শীর্ষক একদিনের কর্মশালায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো T-RISE Portal (Tripura Registry and Integration for Startup Ecosystem)। একইসঙ্গে উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রতীকী Startup One ID Card।
তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের উদ্যোগে এবং হায়দরাবাদের স্টার্টআপ ইনোভেশন প্ল্যাটফর্ম T-Hub-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ত্রিপুরার তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বৃহত্তর বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ব্যবসা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন Sector-Agnostic Tripura Startup Policy-র মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাপানিয়ার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টারে T-NEST নামে রাজ্যস্তরের ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্টার্টআপ নীতি চালুর পর ইতিমধ্যেই ১৮৫টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৪০টি রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত হয়েছে এবং ৭০টি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছে। আর্থিক সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তাদের মধ্যে ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
T-RISE পোর্টালের মাধ্যমে স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা, ইনকিউবেটর, মেন্টর, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি দপ্তরগুলিকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পোর্টালে ২০টির বেশি মেন্টর, ১০টির বেশি বিনিয়োগকারী, কর্পোরেট সংস্থা, ইনকিউবেটর এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে HDFC Bank, Amazon এবং Zoho for Startups-এর সঙ্গে ত্রিপুরা সরকারের সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়। এর মাধ্যমে স্টার্টআপগুলির জন্য ব্যাংকিং পরিষেবা, ই-কমার্স, বাজার সম্প্রসারণ, ক্লাউড-ভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিষেবা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মশালায় T-Hub-এর বিশেষজ্ঞরা উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, অর্থ সংগ্রহ এবং বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি Skyroot Aerospace-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সফল স্টার্টআপ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা ও ‘Unicorn Success Story’ তুলে ধরে নবীন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেন।
অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, ত্রিপুরায় উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্টার্টআপ-নির্ভর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। T-RISE পোর্টাল ও Startup One ID-এর সূচনা সেই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করবে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরায় একটি শক্তিশালী ও উদ্ভাবননির্ভর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে। এর ফলে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ত্রিপুরা পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টার্টআপ গন্তব্য হিসেবে উঠে আসবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*