হৃষ্যমুখ ব্লকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৬৫তম জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ০৬ সেপ্টেম্বর || শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সঠিক পথপ্রদর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষকদের সেই অবদান ও মহান ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হৃষ্যমুখ ব্লকভিত্তিক ৬৫তম জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়। কৃষ্ণনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের কমিউনিটি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন কৃষ্ণনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোবিন্দ মল্ল। স্বাগত ভাষণ দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হৃষ্যমুখ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শম্ভুনাথ কর। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক সপন চন্দ্র দাস, প্রধান বক্তা প্রফেসর শৌভিক বাগচী, কৃষ্ণনগর পঞ্চায়েতের প্রধান লিপিকা মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাদল দত্ত, কৃষ্ণনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত ত্রিপুরাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য, বক্তব্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষকতার দীর্ঘ পথচলা ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শিক্ষক দিবসের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি আরও দৃঢ় হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আত্মিক সম্পর্ক।
জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতার আলোয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই শুধু বছরের একটি দিন নয়, প্রতিটি দিনই শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন—শিক্ষক দিবসের এই অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা উঠে আসে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*