গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ অক্টোবর || শিশুর সঠিক পরিচর্যা, প্রাথমিক শিক্ষা ও বিকাশ এবং সমাজ থেকে সামাজিক ব্যাধি ‘বাল্যবিবাহ’ দূরীকরণে মাঠ পর্যায়ের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ভূমিকা অপরিসীম। মঙ্গলবার গোলাঘাটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঐতিহাসিক শিববাড়ি নাটমন্দিরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ‘অঙ্গন মিলন সভা’-য় প্রধান অতিথির ভাষণে এই বার্তা তুলে ধরেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশালগড় ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন অতসী দাস, ১৭ গোলাঘাটি মণ্ডলের মণ্ডল সভাপতি নারায়ণ দেবনাথ, ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মৌসুমী দাস সহ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের দায়িত্ব কেবল শিশুদের মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণ বা প্রাথমিক পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা প্রতিটি পরিবারের সাথে এক নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কেন্দ্রে কোনো শিশু অনুপস্থিত থাকলে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া, শিশুর স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁর খবর নেওয়ার মতো মানবিক কাজ তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে থাকেন। তিনি বলেন, শৈশবে শিশুরা যে আচরণ ও শিক্ষা পায়, তা তাদের সারাজীবনের মানসিক গঠনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। তাই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ভালোবাসাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে অনুশাসন, সুন্দর জীবনযাপন ও ভালো অভ্যাসের পাঠ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাজে এখনও লুকিয়ে চলতে থাকা বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, কেবল শারীরিক গঠন দেখে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়া এক চরম সামাজিক অপরাধ। ১৮ বছর বয়সের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে মেয়েটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে মা ও শিশু—উভয়ের প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি থাকে। একইভাবে ২১ বছর বয়সের পূর্বে ছেলেদের বিয়ে না দেওয়ার বিষয়েও অভিভাবক ও পরিবারকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে অঙ্গন মিলন মেলার মাধ্যমে স্থানীয় আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের অন্নপ্রাশন এবং গর্ভবতী মায়েদের ‘সাধভক্ষণ’ আয়োজনের মতো মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি পঞ্চায়েত এলাকার সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা একজোট হয়ে টিম হিসেবে কাজ করলে মা ও শিশুদের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা আরও নিখুঁতভাবে পৌঁছাবে। কারণ, একজন শক্তিশালী মা ও সুস্থ শিশুই পারে একটি উন্নত ও শক্তিশালী সমাজ গঠন করতে।
