বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের উদ্যোগে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা দেশবন্ধু ক্লাবের

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১১ অক্টোবর || হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা না থাকায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টা যন্ত্রণায় কাতরাতে হলো অগ্নিদগ্ধ এক গৃহবধূকে। শেষ পর্যন্ত শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের উদ্যোগে এবং দেশবন্ধু ক্লাবের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ক্লাবের এই মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে আসে রোগীর পরিবার ও হাসপাতালে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ তাকমা এলাকা থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক গৃহবধূকে উদ্ধার করে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু অভিযোগ, রেফার করার পর প্রায় তিন ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে থাকতে হয় ওই গৃহবধূকে।
হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না হওয়ায় রোগীর পরিবার-পরিজনসহ উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের দুরবস্থার খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন শান্তিরবাজারের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং। তিনি বিষয়টি শান্তিরবাজারের দেশবন্ধু ক্লাবকে জানান। বিধায়কের কাছ থেকে খবর পেয়ে ক্লাবের সক্রিয় সদস্য সুজন সরকার দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। এরপর দেশবন্ধু ক্লাবের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও খরচে এই পরিষেবা প্রদান করে।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় সুজন সরকারের তৎপরতা ও মানবিক উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাতের বেলায় খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান উপস্থিত অনেকে। পাশাপাশি দেশবন্ধু ক্লাবের এই মানবিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তাঁরা।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না হওয়া উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বিকল গাড়িগুলি মেরামত করে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিবহণের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যাতে কোনও রোগীকে দীর্ঘক্ষণ যন্ত্রণায় অপেক্ষা করতে না হয়, সেই দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এদিন দেশবন্ধু ক্লাব ও সুজন সরকারের উদ্যোগে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন উপস্থিত লোকজন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার স্থায়ী সমাধানের দাবিও জোরালো হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*