নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ১০ অক্টোবর || গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান (PMSMA)। গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরে মোট ৪৮ জন গর্ভবতী মা অংশগ্রহণ করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ করেন। গর্ভাবস্থায় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
শিবিরে অংশগ্রহণকারী গর্ভবতী মায়েদের রক্তচাপ পরিমাপ, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, ওজন নির্ণয়সহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করা হয়। শিবিরে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার শৈলেন্দ্র ত্রিপুরা, চিকিৎসক সৌরভ দাস এবং চিকিৎসক ক্লিংটন ত্রিপুরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আশা কর্মী, এমপিডব্লিউ (MPW) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের সহযোগিতায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় মায়ের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে রক্তাল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ ও পুষ্টির ঘাটতির মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এই সমস্যাগুলি শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে মা ও শিশুর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি বিশেষ মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসের ৯ তারিখে গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় সম্ভাব্য জটিলতা চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আয়োজিত এই শিবিরে ৪৮ জন গর্ভবতী মায়ের অংশগ্রহণ স্থানীয় স্তরে মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
