শিক্ষা দপ্তরের তুঘলকি কান্ড, সিবিএসই গাইডলাইন উপেক্ষা করে চতুর্থ শ্রেণির ষান্মাষিক পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত ‘লেটার রাইটিং’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফুঁসছে অভিভাবকমহল

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ নভেম্বর || রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের খামখেয়ালীপনা এবং অব্যবস্থার জেরে এবার চরম বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একদিকে যখন রাজ্যের স্কুলগুলিতে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং নিয়মিত পঠন-পাঠনের বেহাল দশা চলছে, ঠিক তখনই প্রশ্নকর্তাদের অপরিকল্পিত ও খামখেয়ালী সিদ্ধান্তের কারণে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সিবিএসই নির্দেশিকা ও সুনির্দিষ্ট সিলেবাসকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নপত্রে সিলেবাসবহির্ভূতভাবে ‘লেটার রাইটিং’ জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পরীক্ষার্থী এবং ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে – এই নম্বর দেবে কে?
বিদ্যাজ্যোতি স্কুলগুলিতে প্রচলিত সিবিএসই গাইডলাইন ও নির্ধারিত সিলেবাসে চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজিতে ‘লেটার রাইটিং’ না থাকা সত্ত্বেও তা হুট করে প্রশ্নপত্রে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে ‘পিকচার’ দেখে ‘স্টোরি’ লেখার নির্দেশ থাকলেও, ছবিটি সাদা-কালো হওয়ার কারণে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা তা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। ফলে অযথা নম্বর হারাতে হচ্ছে তাদের, যা তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, যেখানে বিদ্যাজ্যোতি স্কুলগুলিতে অনেক সময়ই ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকেন না এবং পঠন-পাঠন নিয়মিত হয় না, সেখানে হঠাৎ করে এ ধরনের কঠিন ও সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নপত্র তৈরি করা চরম অবিচার। শুধু প্রশ্নপত্র নয়, খোয়াই জেলার একাধিক স্কুলে পিটি-ওয়ান পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের দেখানোর নিয়ম মানা হচ্ছে না। এছাড়া ষান্মাষিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দেরি, সঠিক সময়ে পাঠ্যবই না পৌঁছানো, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষা দপ্তরের তদারকির চরম গাফিলতির মতো একের পর এক অভিযোগে পাহাড় জমেছে। প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকার অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলগুলো যদি নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে ষান্মাষিক পরীক্ষা গ্রহণ করে নিতে পেরেছে, তবে কেন রাজ্য সরকারী স্কুলগুলো একমাস পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বেকায়দায় ফেলল। এখন ষান্মাষিক পরীক্ষাই শেষ হয়নি, অথচ পরবর্তী পরীক্ষা ঠিক একমাস পরেই। এখনও বাকি অর্ধ বছরের জন্য বই বিতরণ করা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরীতে ব্যস্ত রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। শুধু তাই নয় খোয়াই জেলাতে এমনও স্কুল রয়েছে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের হাতে ‘পিটি-ওয়ান’ পরীক্ষার খাতাও দেওয়া হয়নি। একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে খাতা দেখানো হয়না। রাজ্য শিক্ষা দপ্তর বরাবরই এরাজ্যে নজীর স্থাপন করতে ব্যস্ত। বিশেষ করে রাজ্য সরকারকে এবং দপ্তরের মন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সুনাম ক্ষুন্ন করতে মরীয়া। সেটা ১০৩২৩ শিক্ষকদের বেলাই হউক আর রাজ্যের শিক্ষার হাল ফেরানোর প্রশ্নেই হউক- রাজ্য শিক্ষা দপ্তর ট্রান্সফার করে রাজ্যের শিক্ষকদের স্কুল অনুযায়ী অনুপাত ঠিক করতেই ব্যর্থ। এবার তো সেই ব্যর্থতা কঁচিকাঁচা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপরও চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সিলেবাসে ভুল, হাফ সিলেবাস প্রদান, সঠিক সময়ে রাজ্য সরকার অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলগুলো ষান্মাসিক পরীক্ষা গ্রহণ করিয়ে নিলেও, সরকারী স্কুলে একমাস পিছিয়ে দেওয়া, পিটি-টু এবং বার্ষিক পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় কিস্তিতে পাঠ্যবই সঠিক সময়ে প্রদান না করা, স্কুলে নিয়মিত পঠন-পাঠন না হওয়া, তদারকিতে গাফিলতি, শিক্ষকক-শিক্ষিকাদের নিয়মবহির্ভূত ছুটি নিয়ে স্কুলগুলোতে পঠন-পাঠন ব্যহত হচ্ছে দেখেও ব্যবস্থা বা তদারকি না করা ইত্যাদি অভিযোগের পাহাড় রয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের এহেন তুঘলকিপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকার কারণে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও মেধা বিপন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এই অব্যবস্থা রোধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে অবিলম্বে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষামহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*