বিএসএফের উপর প্রাণঘাতী হামলার ২৪ ঘণ্টা পর নিন্দা এলাকার বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের, ঘটনাস্থলে না যাওয়া, নীরবতা ও কেরাম খেলায় ব্যস্ত থাকার অভিযোগে ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ০৩ নভেম্বর || নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আশাবাড়িতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জওয়ানদের উপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে নিন্দা জানালেন বক্সনগরের বিজেপি বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন। তবে বিধায়কের এই বিলম্বিত প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এবার সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। এত বড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও কেন বিধায়ককে ঘটনাস্থলে দেখা গেল না, কেনই বা তিনি এতক্ষণ নীরব ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার একাংশের বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল।
উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানাধীন বক্সনগরের আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের উপর সংঘটিত হয় ভয়াবহ হামলা। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা রুখতে গিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার তথা সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার, চালক সুনীল কুমার ও জওয়ান মনজিত আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বিএসএফের সরকারি গাড়িও। আহতদের প্রথমে বক্সনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ঘটনায় আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এত বড় একটি ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু অভিযোগ, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। এমনকি আহত বিএসএফ জওয়ানদের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও তাঁর কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ সামনে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে বিধায়কের কর্মকাণ্ডের সময়কাল নিয়ে। বিভিন্ন মহল ও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই বিধায়ককে নিজের এলাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেরাম খেলায় ব্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। যখন তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি এলাকায় বিএসএফ জওয়ানদের উপর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা গোটা রাজ্য তথা জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন জনপ্রতিনিধির এমন ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, সাংবাদিকরা বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি এখনও পর্যন্ত সাংবাদিকদের সামনে এসে ঘটনার বিষয়ে কোনও বক্তব্য রাখেননি। এলাকাবাসীর উদ্দেশেও তাঁর তরফে কোনও সরাসরি বার্তা সামনে আসেনি। অবশেষে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে হামলার নিন্দা জানান তিনি। তবে সেই পোস্ট নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, অন্য একজনের পোস্টের বক্তব্য অনুসরণ করেই অনেকটা দায়সারা ভঙ্গিতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিধায়ক।
এখন প্রশ্ন উঠছে, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় বিএসএফের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটার পরও একজন জনপ্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া জানাতে এতটা সময় লাগল কেন? ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা কিংবা আহতদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কোথায়? শুধু সামাজিক মাধ্যমে একটি নিন্দা বার্তা প্রকাশ করেই কি জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
বিএসএফের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর। এই পরিস্থিতিতে বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের নীরবতা, বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া এবং ঘটনাস্থলে না যাওয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তার জবাব দেওয়ার দায়িত্বও এখন তাঁরই। কারণ, সংকটের মুহূর্তেই একজন জনপ্রতিনিধির সক্রিয়তা ও দায়িত্ববোধের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*