ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ক্লেফট লিপ ও ক্লেফট প্যালেট সার্জিক্যাল ক্যাম্প, উপকৃত হবে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুরা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৩ নভেম্বর || জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দিতে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড ড. ব্রাম টিচিং হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে ক্লেফট লিপ ও ক্লেফট প্যালেট সার্জিক্যাল ক্যাম্প। ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম)-এর আরবিএসকে টিম, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ এবং মিশন স্মাইলের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মগত এই সমস্যায় আক্রান্ত বহু শিশু উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মেম্বার সেক্রেটারি ড. শোভিক জানান, সমীক্ষা অনুযায়ী ত্রিপুরায় প্রতি বছর আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জন শিশু ক্লেফট লিপ অথবা ক্লেফট প্যালেটের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই শিশুদের চিহ্নিত করতে আরবিএসকে-র মোবাইল টিম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং করে। প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত শিশুদের পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত বলে বিবেচিত শিশুদের এখানেই সার্জারির ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরও জানান, জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো অস্ত্রোপচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা হলে শিশুদের স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ, কথা বলা এবং সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে, চিকিৎসায় বিলম্ব হলে খাওয়া ও কথা বলার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শিশুর সামগ্রিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং এ ধরনের সার্জিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ড. শোভিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরায় ক্লেফট লিপ ও ক্লেফট প্যালেট সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় ১,১৬৫ জন শিশুর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে জন্মগত এই সমস্যায় আক্রান্ত বহু শিশু নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএএস কিরণ গিত্তে, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ সোসাইটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সপন সাহা, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রিমন দত্ত, হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট অধ্যাপক ড. জয়ন্ত বর্ধন, জয়েন্ট মিশন ডিরেক্টর ড. জ্যোতি দেববর্মা-সহ আরবিএসকে টিমের সদস্যরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ইএনটি, সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ও ফ্যাকাল্টি সদস্যরা, মিশন স্মাইলের প্রতিনিধিরা এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা শিশু ও তাঁদের অভিভাবকরা।
জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সার্জিক্যাল ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*