গোপাল সিং, খোয়াই, ১৬ অক্টোবর ।। খোয়াই শহরের প্রানকেন্দ্র সুভাষপার্কে অবস্থিত কোহিনুর কমপ্লেক্স। ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যে অন্যতম সুন্দরতম মার্কেটটির চর্চা সর্বত্রই রয়েছে। ত্রিতল বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মার্কেটটির সৌন্দর্য্যতার আালোচনা করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানুষজনও। তবে এখন পর্যন্ত এই ত্রিতল মার্কেটটির সমস্ত দোকান-ঘর এখনও ভরেনি। দ্বিতল পর্যন্তই শেড ঘরগুলি ভরেছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য ধীরে ধীরে এগিয়েও চলছে। কিন্তু বর্তমানে কোহিনুর মার্কেটে হাতেগুনা কয়েকজন সমাজের বখাটে যুবকের হাতে চলে গেছে। হেন্ডিং, কোরাক্স, ট্যাবলেট এর ব্যবসার যোগ্য স্থান হিসাবে ব্যবহার করছে কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরকে। নেশায় আসক্ত এবং কিছু অসচেতন নাগরিকের কারনে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় কোহিনুর কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনের উপর সামনের দিকেই দুই পাশকে শৌচালয় বানিয়ে রেখেছে কিছু অসচেতন মানুষজন। সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কোরাক্স এবং মদের বোতল সহ অন্যান্য দৃষ্টিকটু জিনিষ। এছাড়া ব্যবসায়ীদের উদাসীনতায় কমপ্লেক্সের অভ্যন্তর পরিচ্ছন্ন যেমন থাকছেনা তেমনি কতিপয় ব্যবসায়ীরা হাঁটাচলার রাস্তায় দোকানের সামগ্রী দিয়ে ভরে রাখায় ক্রেতাদের চলাচলেও অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। গোটা চিত্র সম্পর্কে খোয়াই পুর পরিষদ জানেনা এমনটা নয়। সবই জানা। অথচ দায়ভার এড়িয়ে চলছে। তবে শুধু পুর পরিষদই দায়ি নয়, দায়ি কতিপয় ব্যবসায়ীরাও। ঐসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের যোগসাজশ রয়েছে। জনগনের মতে দু-একজন ভাল ব্যবসায়ী প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলেও রক্তচক্ষুর কাছে ওনারা পিছপা হয়ে যান।
কোহিনুর কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরকে শৌচালয় বানিয়ে ফেলেছে কিছু অসচেতন মানুষ এবং কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। তাই বলে কি কমপ্লেক্সে শৌচালয় নেই? আছে, কিন্তু খোয়াই পুর পরিষদের দায়িত্বে থাকা শৌচালয় উনারা ব্যবহার করতে দেননা। দ্বিতলে শৌচালয় ব্যবহার করতে দিলেও সেটিতে তালা দেওয়া থাকে। চাবি থাকে একজন ব্যবসায়ীর কাছে। কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের মতে, বারবার শৌচালয়ে যেতে একজন ব্যাক্তির কাছে চাবি চাইতে যাওয়া সম্ভব নয়। আর সে কারনেই কোহিনুর কমপ্লেক্সের দ্বিতলে সামনের দিককেই প্রাকৃতিক কার্যাদি সম্পন্ন করে নেন অনেকেই। যেকারনে নুংরা-পুঁতিময় অবস্থার মধ্যে ব্যবসায়ীদের এখন নাভি:শ্বাস। যদিও ওদিকে কেউ যাননা। আর সেই সুযোগে নির্জন এলাকায় সব অপকর্ম স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। অথচ ৫০-৬০ হাত দুরেই রয়েছে সুভাষপার্ক আউটপোষ্ট। এমন নয় যে উনারা জানেন না কমপ্লেক্সের ভেতর কি চলছে! কে কি করছে ! হেন্ডিং খেলা হচ্ছে। নেশার কারবার হচ্ছে। সবকিছু জেনেও সামান্য কিছু বাড়তি আয়ের লোভে সুন্দর এই মার্কেটটিকে ধ্বংশের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জনগনের মতে, হাতেগুনা মাত্র কয়েকজন যাদের কথা উনাদের পরিবার শুনেনা তাদের জন্য প্রশাসনের কেন এমন উদারতা? জনসাধারন তাই দাবি জানিয়েছেন যেন কোহিনুর কমপ্লেক্সের জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে খোয়াই পুর পরিষদ এবং হাতেগুনা কিছু সমাজ কলুষিতকারী এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে মোকিবালা করে খোয়াই পুলিশ ও প্রশাসন। খোয়াইবাসীর এই দাবি কবে নাগাদ পুরন হয় এখন সেটাই দেখার।
