মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখলেন মূখ্যমন্ত্রী এবং রাজস্বমন্ত্রী

cmআপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ আগষ্ট ৷৷ রাজ্যে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের আবহাওয়া দপ্তর। ফলে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বহু মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জলমগ্ন হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া নদীর তিনটি জায়গার বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। হলে সেই ফাটল দিয়ে শহরে জল ধুকতে শুরু করেছে। শুক্রবার গোটা শহর হলের তলে চলে যায়। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পশ্চিম জেলাতেই সবচেয়ে বেশি জলপ্লাবন দেখা দেখা দিয়েছে। আগরতলা শহরের শ্রীলঙ্কাবস্তি, বলদাখাল, প্রতাপগড়, ঋষি কলোনী, কালিকাপুর, যোগেন্দ্রনগর, পান্ডবপুর, জলপ্লাবিত হয়। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজ্য সরকারের তরফে সমস্ত স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
শনিবার সকাল থেকেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। তাতে করে হাওড়া নদীর জল শুক্রবার দুপুর থেকেই বিপদসীমার উপর দিয়েই বইতে শুরু করেছে। এই ভয়ানক নল্যার কবলে পড়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শহরবাসী। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও। পশ্চিম জেলাশাসকের তরফে ত্রাণ কাজে ব্যবহৃত নৌকা ছাড়াও অন্যান্য মহকুমা, গকুলনগরের সেন্ট্রাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকেও নৌকা নামানো হয়েছে। এন ডি আর এফ এবং সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছেন।
মূখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং রাজস্ব মন্ত্রী বাদল চৌধুরী শনিবার বিকেলে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বন্যা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
গত ২৪ ঘন্টায় আগরতলায় ৯৩.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ডি নগর ১৩৯.৮ মিলিমিটার, বিশালগড় ৮৭.৩ মিলিমিটার, সোনামুড়া ১১৫ মিলিমিটার, খোয়াই ৮৮.৪ মিলিমিটার, কৈলাশহর ৪৪.৪ মিলিমিটার, পানিসাগর ৬৯.৬ মিলিমিটার, কাঞ্চনপুর ১১৩.২ মিলিমিটার, অমরপুর ৭০.৩ মিলিমিটার, উদয়পুর ১০৭.১ মিলিমিটার, বিলোনিয়া ২২.৪ মিলিমিটার, সাব্রুম ৪৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে ভারতের ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*