স্বাস্থ্য আধিকারিকের উপর আশা কর্মীদের ক্ষোভ, অসুস্থ এক কর্মী, স্তব্ধ সার্ভের কাজ

bcxসাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৭ জুলাই ৷। সঠিক নির্দেশ না থাকায় আশা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের আধিকারিকের উপর। সোমবার থেকে ৭ দিন ত্রিপুরা রাজ্যের প্রত্যেকটা মহকুমা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক সার্ভে হওয়ার দিন ঠিক করা হয়। সেই মোতাবেক তেলিয়ামুড়া মহকুমাধীন আশা কর্মীরাও মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে তেলিয়ামুড়ার নেতাজীনগরস্থিত অশ্বিনী কুমার কমিউনিটি হলে উপস্থিত হন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ। কিন্তু অভিযোগ, সেইখানে বিগত দিনে পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যেহেতু তারপর সেটা আর পরিস্কার ও স্যানিটাইজ করা হয়নি, সেহেতু এইখানে আশা কর্মীরা যেতে স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশের উপর একপ্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে আশা কর্মীদের তেলিয়ামুড়ার নেতাজীনগরের পুর পরিষদে যাওয়ার কথা বলা হয়। পরে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মতো সেইখানে অর্থাৎ পুর পরিষদে আশা কর্মীরা আসলে তাদের সাথে বাজে ব্যবহার ও কুরুচিকরপূর্ণ মন্তব্য করেন তেলিয়ামুড়ার পুর পরিষদেরই এক আধিকারিক বলে জানান আশা কর্মিরা। এতে ক্ষণিকের মধ্যেই আশা কর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পরে। অপরদিকে এরই মাঝে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটাছুটিতে এবং পুর আধিকারিকের সঙ্গে বাক-বিতন্ডার সময় শীলা পাল নামে এক আশা কর্মী তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পরেন। বর্তমানে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা যায়। তবে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী তেলিয়ামুড়ায় মোট ১৪৭ জন আশা কর্মীদের মধ্যে ১২ জন আশা কর্মীর নাম এই লিস্টে নেই। এছাড়াও এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে সার্ভের কাজে। তবে তেলিয়ামুড়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের দ্বায়িত্ব-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন মহলে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে বাস্তব রুপ দিতে স্বাস্থ্য আধিকারিকের দ্বায়িত্ব-জ্ঞান-হীনতার জন্য ত্রুটি পূর্ণ রয়ে গেল এদিনের তেলিয়ামুড়ায় সার্ভের কাজ। এইদিকে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নীতিন কুমার সাহা ও রূপক সরকার সেই খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদে ছুটে আসেন। তারা এই বিষয়টির সকল রকম খবরা খবর নেন। তেলিয়ামুড়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের জনৈক আধিকারিকের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্য আধিকারিকের এমন দায়িত্ব-জ্ঞান-হীন কাজের জন্যও একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*