জাতীয় ডেস্ক, নয়া দিল্লী, ৩০ জুলাই ৷। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আর নতুন করে বোর্ডের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে আনা হবে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি। এখানে প্রাথমিককেও আনা হচ্ছে স্কুলের আওতায়। ক্লাস ওয়ান ও ক্লাস টু-কে রাখা হচ্ছে প্রি-প্রাইমারির মধ্যে। এটিকে বলা হচ্ছে ‘ফাউন্ডেশন কোর্স’। প্রচলিত ব্যবস্থাকে পাল্টে নতুন ব্যবস্থায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত একটি স্টেজ করা হচ্ছে। এটিকে বলা হচ্ছে ‘সেকেন্ডারি স্টেজ’। এর ফলে এই স্টেজ চালু হলে এখনকার মতো আর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা হবে না। এর পরিবর্তে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বছরের মধ্যে ৪০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা নেবে পর্ষদ। বাকিগুলো নেবে স্কুল। এই ৪ (চার) বছরের কোর্স হবে ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনারি’। অর্থাৎ এই নতুন পদ্ধতিতে পড়ুয়ারা তাদের পছন্দের বিষয় বেছে নিতে পারবে। তবে দেখতে হবে ওই কম্বিনেশনের কারণে পরবর্তিতে উচ্চশিক্ষায় যেন কোনো ধরণের অসুবিধা না হয়।উচ্চশিক্ষায় যারা গবেষণা করবে তাদের ৪ বছরের কোর্স হবে। এমফিল (M.Phil) করতে হবে না। স্নাতক স্তরে প্রতি বছরের পর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছরের পর দেওয়া হবে ডিপ্লোমা। তৃতীয় ও চতুর্থ বছরের পর দেওয়া হবে স্নাতক সার্টিফিকেট। শিক্ষা পরিকল্পনা, পাঠদান, প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষায় ই-কোর্স তৈরি করা হবে। স্কুল, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল মাধ্যমে সজ্জিত করার জন্য ভার্চুয়াল ল্যাব তৈরি করা হবে। হিন্দি এবং ইংরেজির সঙ্গে সঙ্গে বাংলা, কানাড়া, ওড়িয়া, তামিল ইত্যাদি আঞ্চলিক ভাষার ই-কনটেন্ট তৈরি করা হবে।
সরকারী ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে একটিই বিস্তৃত নিয়ামক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং বেতনও বেঁধে দেওয়া হবে। জানা যায়, প্রচলিত ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছিলো। সেই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে কস্তুরিরঙ্গন। গত বছর কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে নতুন শিক্ষানীতি সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দেয় কমিটি। সেই খসড়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।
