আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২৩ আগষ্ট ৷। এক অসহায় গরিব কৃষকের এক কানি লাউ ক্ষেত ধ্বংস করে দিয়েছে দুষ্কৃতী মিঠুন দাস। ঘটনা চরিলাম আর ডি ব্লকের অন্তর্গত চেচুড়ী মাই গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নম্বর ওয়ার্ড থালা ভাঙ্গা এলাকায়। চেচুড়ী মাই গ্রামের থালা ভাঙ্গা এলাকা পাতা সবজির জন্য বিখ্যাত। এই এলাকা থেকে যদি বিশালগড়, বিশ্রামগঞ্জ এবং চরিলাম বাজারে সবজি না আসে তাহলে বাজারে সবজির টান পড়ে যায় এমনটাই জানিয়েছেন গ্রামের মানুষজন। চেচুড়ী মাই গ্রামের থালা ভাঙ্গা এলাকার গরিব কৃষক মন্টু দাস তার নিজস্ব জমিতে এক লক্ষ টাকা খরচ করে লাও খেত করেছেন বলে জানিয়েছেন। সবে মাত্র ১৪টি লাউ বিক্রি করেছেন। শুরু হয়েছিল বিক্রি করা।
এরই মধ্যে শনিবার গভীর রাতে এলাকার মিঠুন দাস সমস্ত লাউ গাছের শিখর গুড়ি দিয়ে কেটে দেয় বলে অভিযোগ। যার ফলে সব লাউ গাছ মরে যায়। লাউয়ের করা গুলিও কেটে দেয়। দুষ্কৃতী মিঠুন রাত্রিবেলায় যে মন্টু দাস এর লাউ ক্ষেতের দিকে যাচ্ছিল তা দেখে ফেলেছে একই এলাকার সুনীল দাস কালীপদ দাস এবং প্রমিলা দাস নামে তিনজন মানুষ। সকালবেলা যখন লাউ ক্ষেতের মালিক মন্টু দাস লাউ খেতে যান তখন সমস্ত লাউ গাছ মরে রয়েছে দেখে হাউমাউ করে চিৎকার করে ফেলেন এবং মন্টু দাসের চিৎকারে গোটা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয় লাউ খেতে। মন্টু দাসের স্ত্রী মাথা চাপড়িয়ে কাঁদতে থাকেন। উনি বলেন, কানের দুল বন্ধক দিয়ে গলার হার বন্ধক দিয়ে তারপরে লাউ ক্ষেত করেছি। উনি আরো জানান, কিছুদিন আগে রাস্তা নিয়ে মিঠুন দাসের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল। যার ফলে মিঠুন দাস আমার ক্ষেত ধ্বংস করে দিয়েছে। গোটা গ্রামের মানুষ জানিয়েছে মিঠুন দাস চুর। কারোর জমি থেকে করোলা তো কারোর জমি থেকে লাউ কারুর জমি থেকে পটল ঝিঙ্গে এবং এলাকাবাসীর পুকুর থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। গোটা এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ মিঠুনের চুরির জ্বালায়। সে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটায় আর রাত্রি হলেই মানুষের বাড়িতে মানুষের জমিতে এবং মানুষের পুকুরে চুরি শুরু করে বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকার কয়েকজন মানুষ আরও জানিয়েছেন, তালা ভাঙ্গা এলাকায় জমিতে সেলুরপাইপপর্যন্ত কেটে নিয়ে যায় মিঠুন। গোটা গ্রামের মানুষ দুষ্কৃতী মিঠুনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। মন্টু দাস দুষ্কৃতী মিঠুন দাসের বিরুদ্ধে বিশ্রামগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। বিশ্রামগঞ্জ থানা থেকে এস আই শম্ভু লোন মিঠুন দাসকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। অসহায় মন্টু দাস এখন ভেবে পাচ্ছেন না কি করে লাউ ক্ষেতের লোকসান পুষিয়ে উঠবেন। কারণ তিনি স্ত্রীর স্বর্ণের জিনিস বন্ধক দিয়ে তারপর লাউ ক্ষেত চাষ করেছেন। চেচুড়ী মাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপ দেবনাথ এবং উপপ্রধান তুলসীদাস এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দুষ্কৃতী মিঠুন দাসের কঠোর শাস্তির দাবি করেন।