আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ ফেব্রুয়ারী || বহু প্রতিক্ষার অবসান হলো। জনজাতি সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল খুমলুঙ প্রেস ক্লাবের জন্য পৃথক জায়গা বরাদ্দের। সালকাহাটি মাল্টি কমপ্লেক্সে টিটিএএডিসি-তে খুমলুঙ প্রেস ক্লাবের জন্য জায়গা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের জন্য, সংবাদকর্মীরা শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পাশাপাশি এদিন রাজ্য সরকার খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের জন্য আবাসস্থলের অনুমোদন দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় সন্তোষ ব্যক্ত করছে ফোরাম ফর ডেভলামমেন্ট এন্ড প্রোটেকশন অব মিডিয়া কমিটি, ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন ও ত্রিপুরা ইলেকট্রনিস্ মিডিয়া সোসাইটি। রাজ্যের বিরাজমান সম্প্রীতি ও সংবাদ জগতের বৌদ্ধিক বিকাশের ক্ষেত্রে খুমুলুঙ প্রেস ক্লাব তৈরীর জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে রাজ্যে যে মাইল ফলক তৈরী হয়েছে এবং তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে এই তিনটি সংগঠন।
সম্প্রতিকালে সমগ্র রাজ্যে ৬০-৭০ জন ককবরক ভাষাভাষী সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ টি টি এ এ ডি সি-এর সদর দপ্তর খুমুলুঙ ও আগরতলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ককবরক ভাষায় টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া অককবরক ভাষাভাষী সাংবাদিকরাও এ ডি সি এলাকায় কাজ করছেন। এই সকল সাংবাদিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত দাবী হিসেবে সামনে এসেছে খুমুলুঙ প্রেস ক্লাব গঠনের দাবী। এই দাবীর সমর্থনে সক্রীয়ভাবে পাশে দাড়িয়েছে ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন, এফ ডি পি এম সি এবং টি ই এম এস। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বারংবার এই খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের দাবীটি নিয়ে এসেছে তিনটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। টি টি এ এ ডি সি কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের সাথে প্রতিনিয়ত আলোচনা চালিয়ে গেছে এই তিন সংগঠনসহ খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তারা।
রাজ্য সরকার এই খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের সরকারী স্বীকৃতি দেওয়াকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সংগঠন তিনটির নেতৃবৃন্দ। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক প্রণব সরকার, ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়নের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জদ আলি, এফ ডি পি এম সি-র উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য সঞ্জয় পাল, এফ ডি পি এম সি-র সভাপতি জয়ন্ত ভট্টাচার্য, এফ ডি পি এম সি-র সাধারণ সম্পাদক সেবক ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটির সম্পাদক সৌরজিৎ পাল, খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের সম্পাদক রঞ্জিত দেববর্মা, সভাপতি অংশুমান দেববর্মা, এফ ডি পি এম সি-র রাজ্য কমিটির সদস্য রমাকান্ত দে ও দিপন্ত মজুমদার প্রমুখ।
অতবাহিত সংগঠন তিনটির যৌথ নেতৃত্ব ও খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সৈজন্যমূলক সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এ ডি সি এলাকার উন্নয়নে খুমুলুঙ প্রেস ক্লাব অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। ভাষা ও সাংবাদিকতার বিকাশেও এই খুমুলুঙ প্রেস ক্লাব যথার্থ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা রাখেন।
খুমুলুঙ প্রেস ক্লাবের সরকারী অনুমোদন পাওয়ায় রাজ্যের ককবরক ভাষাভাষী সাংবাদিকসহ সংবাদ জগতের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দিপনা পরিলক্ষিত হয়েছে।
