চোখের জলে শেষ বিদায় প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুজিবুর ইসলাম মজুমদার

আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ০৭ জানুয়ারি || প্রয়াত তৃণমূল নেতা মজিবুর ইসলাম মজুমদারের মৃতদেহ শুক্রবার প্রথমে আগরতলা মিলনচক্রস্থিত বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। এখানে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। এসময় এখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি দলের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাংসদ ডঃ শান্তনু সেন, রাজ্য তৃণমূল নেতা রতন দাস, ত্রিপুরা রাজ্যের তৃণমূলের স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক সুবল ভৌমিক এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।
সকলেই চোখের জলে শেষ বিদায় দিলেন মুজিবুর ইসলামকে। এদিন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, মুজিবুর ইসলামকে খুন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সুদীপ রায় বর্মণ।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মুজিবর ইসলাম মজুমদারের আগরতলাস্থিত বাসভবনে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে দিনদুপুরে উনার বাড়িতে হামলা চালায় দুস্কৃতিকারীরা। এই দিন উনি সহ মোট তিন জন তৃণমূল কর্মী ও ওনার পরিবারের সদস্যরা প্রচন্ডভাবে আহত হয়। মুজিবর ইসলাম মজুমদার এবং ছাত্রনেতা শুভঙ্কর মজুমদার দুজনকে কলকাতা এসএসকেএম হসপিটালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই দিকে শুভঙ্কর মজুমদার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসলেও, আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে মুজিবর ইসলাম মজুমদারকে বহু চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করা গোলো না। বৃহস্পতিবার রাতে আগরতলা বিমানবন্দরে কলকাতা থেকে উনার মৃতদেহ আনা হয়। জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ছয় ঘটিকার সময় কলকাতার এস এস কে এম হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে উনার মৃতদেহ কলকাতা থেকে আগরতলা আনা হয়। শুক্রবার সকালে আগরতলা থেকে সোনামুড়া উনার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়। প্রথমে সোনামুড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভবনের সামনে উনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এদিন সোনামুড়া শহরে উনার মৃতদেহকে নিয়ে একটি মৌন মিছিল সংঘটিত করা হয়। এরপর উনার নিজ বাড়ি দুর্গাপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বিকাল চার ঘটিকার উনার মা বাবার কবরস্থানের পাশে উনাকে সমাধি করা হয়। উনার এই মৃত্যুতে গোটা সোনামুড়া মহকুমা জুরে এবং রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী সহ এক ছেলে এবং এক মেয়ে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*