আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ মে || বুধবার রাজধানীর প্রজ্ঞাভবনে এক কর্মনিযুক্তি ও রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ঘোষণা করেন যে, বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই ডাই-ইন-হারনেস সহ মোট ১৯,২৬২ জনকে চাকরি প্রদান করেছে। তিনি জানান, নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াও নতুন পদ সৃষ্টি করে রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
এই অনুষ্ঠানে খাদ্য দপ্তরের অধীনে নবনিযুক্ত ১৫ জন ফুড ইন্সপেক্টরের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “জনসেবার উদ্দেশ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজ্য সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ এবং মেধার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি বলেন, “এক সময় দলীয় অফিস থেকে চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ হতো, আজ তা সম্পূর্ণ অতীত।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে বর্তমানে ১২ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৩ জন ফিউমিগেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, ৬ জন স্টোর কিপার এবং ৩৫ জন স্টোর গার্ড নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে স্মার্ট রেশন কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ৩,৬৮,৮০০টি বিনামূল্যের এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, এমএসপি’তে ২.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে মোট ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে গরিবদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ, খাদ্য ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আমাদের সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। আগের সরকারে রাজনৈতিক পরিচয়ই ছিল যোগ্যতার মাপকাঠি।” তিনি বলেন, “আজকের এই নিয়োগ স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রশাসনের প্রতিফলন।”
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি মেগা রক্তদান শিবিরও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কর্মসূচি কেবল নিয়োগ নয়, এটি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক।”
