ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে AISF-এর তীব্র প্রতিবাদ, অবিলম্বে সংস্কারের দাবি

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন || বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুনু দাস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সারা ফেডারেশন (AISF) ত্রিপুরা রাজ্য পরিষদ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন AISF রাজ্য সভাপতি শুভদীপ মজুমদার এবং রাজ্য সম্পাদক সায়ন পাল। এদিন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শুভদীপ মজুমদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাবের ফলে শত শত শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে শুভদীপ মজুমদার জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস, সেমিস্টার পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ অনিয়মিত সময়ে চলছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের মধ্যে স্নাতকোত্তর কোর্সের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে ক্লাস শুরু করতে হবে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অধিভুক্ত কলেজগুলির স্নাতক কোর্সের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষার শেষ হয়নি। যারা এইবছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রীতে ভর্তি হবার কথা ভাবছে তারা আর এইবছর ভর্তি হতে পারবেনা। এইভাবে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনের এমন উদাসীনতা শিক্ষার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
শুভদীপ মজুমদার আরও বলেন, এই সংকট নতুন নয়, তবে বর্তমানে এটি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা না হওয়া, ফলাফল প্রকাশে দেরি — এসব মিলিয়ে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক ও একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছাত্রছাত্রীদের সমস্যাগুলোর নিরসনে AISF চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে:

১. খুব দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের উপর বাড়তি চাপ না দিয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ করতে হবে।

২. ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ না দিয়ে অতিসত্তর নিজেদের শিডিউল ঠিক করতে হবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে।

৪. যে কোর্সগুলোর মার্কশিট দেওয়া হয়নি উক্ত কোর্সগুলোর মার্কশিট অতিসত্তর ছাত্রছাত্রীদের দিতে হবে।

AISF হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা আরও বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের পথে হাঁটবে এবং বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) কাছে তুলে ধরবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি শুভদীপ মজুমদার বলেন, “আমরা চুপ করে থাকব না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই চূড়ান্ত অবহেলার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ছাত্রদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
এই প্রতিবাদ মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত দায়িত্বহীন নীতির বিরুদ্ধে AISF-এর একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, সংগঠনটি ভবিষ্যতে ছাত্রদের স্বার্থে লড়াই আরও তীব্র করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*