গোটা রাজ্যের পাশাপাশি খোয়াইতেও শিক্ষক সঙ্কট তীব্র, ৪০ জন পড়ুয়ার জন্য মাত্র ১ জন সক্রিয় শিক্ষক, ৪ বছর ধরে চলা বেহাল শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে এসএফআই’র ডেপুটেশন

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ অক্টোবর || খোয়াই শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘লালছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়’-এর প্রাতঃ (প্রাথমিক) বিভাগে চরম শিক্ষক সংকটের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে এলো। ১ থেকে ৫-ম শ্রেণীর সমস্ত পড়ুয়াকে একটিমাত্র ঘরে বসিয়ে এক শিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান চালানোর মতো নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আজ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করল ভারতের ছাত্র ফেডারেশন খোয়াই বিভাগীয় কমিটি। ডেপুটেশন প্রদানকালে এসএফআই প্রতিনিধিদল সরজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের একই ঘরে একত্রিত করে একজন মাত্র শিক্ষক কষ্টার্জিতভাবে পঠনপাঠন চালাচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাতঃ বিভাগে বর্তমানে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও মোট শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ২ জন! তার ওপর সেই ২ জনের মধ্যে একজন শিক্ষক প্রায়শই অসুস্থ থাকেন। ফলে অবশিষ্ট একজন শিক্ষককেই একই সাথে ৫টি শ্রেণীর পাঠদান, শিশুদের দেখভাল এবং যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্ষোভের সাথে জানান, যখন তিনি রাজ্য সরকারের জনগণনার ডিউটিতে ব্যস্ত থাকেন, তখন স্কুলে পঠনপাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়। বিগত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে এই গুরুতর সংকট চললেও বারবার বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। শিক্ষা দপ্তর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবহেলা করে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। খোয়াই শহরের বুকঘেঁষা একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে শিক্ষার এমন নগ্ন ও কঙ্কালসার দশা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র নেতারা। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়— শহরের প্রধান স্কুলেই যদি এমন অবস্থা হয়, তবে গ্রামের ভেতরের স্কুলগুলির অবস্থা কতটা করুণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিনের এই ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই খোয়াই বিভাগীয় সম্পাদক সাগর পাল, সভানেত্রী সায়ন্তিকা দেব, বিভাগীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সৌরভ শীল সহ অন্যান্য ছাত্র নেতৃত্ব। অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করে পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এসএফআই নেতৃত্বরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*