গোপাল সিং, খোয়াই, ১০ আগস্ট || প্রচলিত চুরির ধারণা ভেঙে খোয়াইয়ে এক নতুন সামাজিক বাস্তবতার উদয়। যেখানে দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য এখন শুধু অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী নয়, বরং রান্নাঘরের চাল-ডাল আর হাঁড়িতে থাকা সামান্য অন্ন। শুক্রবার রাতে খোয়াই থানাধীন পূর্ব গণকী পঞ্চায়েতের শ্রমিক কলোনিতে ঘটে যাওয়া এক সিরিজ চুরির ঘটনা প্রচলিত অপরাধের সংজ্ঞাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু শ্রমিক কলোনির দুটি বাড়ি ও একটি দোকান। সকালে ঘুম ভেঙে বাসিন্দারা যে দৃশ্যের সম্মুখীন হন, তা নিছক চুরির ছিল না; ছিল এক অদ্ভুত অসহায়ত্বের ছাপ। দুষ্কৃতীরা শুধু ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালায়নি, বরং রান্নাঘরে ঢুকে নিশ্চিন্তে হাঁড়ির ভাত-তরকারি সাবাড় করেছে। এরপর যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে গেছে চাল, ডাল এবং রান্নার নিত্যপ্রয়োজনীয় বাসনপত্র। যেন কোনো পেশাদার চোর নয়, ক্ষুধার্ত একদল মানুষ হানা দিয়েছিল তাঁদের সংসারে। এই ঘটনায় কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাবের পাশাপাশি এক গভীর সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সমাজ কি এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে যেখানে চুরির মূল উদ্দেশ্য আর সম্পদ আহরণ নয়, বরং শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ? শুধু অর্থলোভ নয়, তীব্র দারিদ্র্য ও ক্ষুধার তাড়নাই কি এই ঘটনার নেপথ্যে? খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু এই তদন্ত শুধু অপরাধী শনাক্তকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর পেছনের সামাজিক কারণগুলোকেও সামনে আনবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা এখন শুধু সম্পদ হারানোর ভয়েই নয়, এক অনিশ্চিত সামাজিক ভবিষ্যতের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে নিরাপত্তার চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে মানবিক অস্তিত্বের লড়াই।
