সীমান্তে চোরাচালান-অনুপ্রবেশে ক্ষোভ: বিএসএফের সাফল্য নাকি ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল?

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ আগস্ট || ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের (BSF) ‘সফলতা’র যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা রাজ্যজুড়ে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিএসএফের নাকের ডগা দিয়ে গোটা ত্রিপুরা রাজ্যজুড়েই সীমান্তপার অবৈধ পাচার বাণিজ্য এবং অনুপ্রবেশ নির্বিঘ্নে ঘটেই চলেছে। গত ২৮শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বিএসএফের দুটি ‘সাফল্য’-কে এই বৃহত্তর ব্যর্থতা ঢাকার লোকদেখানো প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২৮শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের সৈন্যরা পাথরিদ্বার বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের পোশাক, আতশবাজি এবং প্রসাধনী সামগ্রীর একটি চোরাচালানের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। একই দিনে, বিএসএফ ত্রিপুরা-র সৈন্যরা নিউ নিদয়া বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক এবং ১ জন ভারতীয় দালালকে আটক করেছে।
তবে জনসাধারণের অভিযোগ, এই ধরনের ‘ছোটখাটো’ সাফল্য সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর সামগ্রিক ব্যর্থতাকেই প্রকট করে তুলছে। তাদের দাবি, যখন সীমান্ত কাঁটাতার পার করে ত্রিপুরাতে অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন দু-একটি লোকদেখানো তত্পরতা দেখা গেলেও, বড় বড় চোরাকারবারীরা ঠিকই তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএসএফের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে এই ব্যাপক পাচার এবং অনুপ্রবেশ সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্যজুড়ে জনগণ বলছেন, বিএসএফের এই বিচ্ছিন্ন সাফল্যগুলি কেবল ‘সামান্য কিছু সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে, যা সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের সামগ্রিক দুর্বলতাকে আড়াল করতে পারছে না। বরং, বিএসএফের তথাকথিত ‘সাফল্য’-এর মধ্যে দিয়ে যখন বড় অপরাধীরা অধরা থাকছে, তখন জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত বড় চোরাচালান চক্র এবং অনুপ্রবেশকারীদের মূল হোতাদের ধরা না পড়ছে, ততক্ষণ এই ছোটখাটো সাফল্যগুলি অর্থহীন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*