তিপ্রা মথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার চিঠি সংসদীয় তফসিলি উপজাতি কমিটির চেয়ারপার্সনকে, অ-উপজাতি যুবক ও উপজাতি নারীর বিবাহে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি

গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ আগস্ট || ত্রিপুরার তিপ্রা মথা পার্টির খোয়াই রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর চিঠি লিখেছেন সংসদীয় তফসিলি উপজাতি কমিটির চেয়ারপার্সন ফাগ্গান সিং কুলাস্তে’র নিকট, যা রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এই চিঠিতে তিনি অ-উপজাতি পুরুষ এবং উপজাতি নারীর মধ্যে বিবাহ বন্ধনে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, যেসব দম্পতি ইতিমধ্যেই এই ধরনের বিবাহ সম্পন্ন করেছেন, তাদের উপর সরকারি কর আরোপের প্রস্তাবও রেখেছেন।
বিধায়কের আরও দাবি, কিছু অ-উপজাতি যুবক উপজাতি মেয়েদের “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” বিবাহ করে জমি ক্রয় এবং অন্যান্য ব্যবসায় সরকারি কর এড়িয়ে যাচ্ছেন। তার অভিযোগ, বিবাহ পরবর্তীকালে তারা উপজাতি স্ত্রীর নামে জমি কিনে রাজস্ব ও কর ফাঁকি দিচ্ছেন এবং পেট্রোল পাম্প, গ্যাস এজেন্সি ও অন্যান্য ব্যবসা শুরু করছেন। এতে ত্রিপুরার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ইটভাটাগুলি সরকারে নামমাত্র কর জমা দিচ্ছে।
পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি সরকারি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। বিধায়কের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অ-উপজাতি স্বামীরা উপজাতি স্ত্রীদের “অভিভাবক” হিসেবে দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। এছাড়াও, বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা” বাড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিধায়ক তার চিঠিতে চেয়ারপার্সন ফাগ্গান সিং কুলাস্তেকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের বিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং বর্তমান দম্পতিদের উপর কর আরোপ করা “বৈধ রাজস্ব ও কর” আদায় এবং সমাজে “শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান” নিশ্চিত করার জন্য “অপরিহার্য”।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*