খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে আধার আপডেট শিবিরে চরম বিশৃঙ্খলা, ভোগান্তিতে শত শত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৮ নভেম্বর || খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে চলমান আধার আপডেট শিবিরকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার পরপর দুই দিন ধরে খোয়াই শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুলের শত শত ছাত্র-ছাত্রী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। শিবির চলবে আগামী ২০শে নভেম্বর পর্যন্ত।
অভিযোগ, শিবির পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত নেই। আধার আপডেটের পুরো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত অব্যবস্থিত—ফর্ম কোথায় পাওয়া যাবে, কোথায় জমা দিতে হবে, কিংবা দায়িত্বে কোন শিক্ষক আছেন—এসব বিষয়ে কেউই স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খেয়ে লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বসার জায়গা নেই, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, আর যেখানে আপডেটের কাজ চলছে সেই কক্ষের আশপাশ টয়লেটের দুর্গন্ধে ভরা। শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নোংরা পরিবেশে, অথচ ঠিক উপরের তলাতেই রয়েছে খোয়াই জেলা শিক্ষা দপ্তরের কার্যালয়। কিন্তু জেলা শিক্ষা আধিকারিক দপ্তরের কাজে আগরতলায় থাকায় আজ অফিসে অনুপস্থিত। অফিসে উপস্থিত ওএসডি মনোরঞ্জন দেববর্মাও জানান, আধার শিবিরের আয়োজন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। এই বলে তিনি দায় এড়িয়ে যান।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ—যে স্কুলে শিবির বসানো হয়েছে, সেই বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালও দপ্তরের কাজে আগরতলায় রয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তাদের নিজস্ব ক্লাসও চালাতে হচ্ছে। তবুও বাধ্য হয়ে তাদেরই ফর্ম যাচাই ও সই করতে হচ্ছে। অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সামান্য সহযোগিতা করছেন, কিন্তু পুরো আয়োজনের দায়ভার বিদ্যালয়ের নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁদের মুখে সাংবাদিকের প্রশ্নে অসন্তোষই স্পষ্ট।
এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বলে জানা গেছে। কারণ ফর্ম বিতরণ বা সংগ্রহের জন্য কোনো দায়িত্বশীল শিক্ষককে নির্দিষ্ট করা হয়নি। অন্য স্কুল থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের শিক্ষকদের সঙ্গে এসেছে, কিন্তু এখানকার শিক্ষার্থীরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও সন্ধান না পেয়ে একপ্রকার আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
গণকী, রামচন্দ্রঘাট, চেবরীসহ দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরাও সকাল থেকে মাঠে-ঘাটে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ পুরো প্রক্রিয়াটিই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ভরা। তাদের অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই।
উল্লেখ্য, খোয়াই বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রবেন কুমার দেববর্মা ১৪ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৭ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে MBU—Mandatory Biometric Update-এর বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। School UDISE Portal-এ যেসব ছাত্র-ছাত্রীদের MBU status pending রয়েছে, তাদের এই চার দিনের মধ্যেই আধার আপডেট বাধ্যতামূলক।
কিন্তু বাস্তবে শিবিরের শুরুতেই যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের আধার আপডেটের পরিবর্তে ভোগান্তিই যেন প্রধান হয়ে উঠেছে। অভিভাবকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*