
আপডেট প্রতিনিধি, বিহার, ২০ নভেম্বর || ২৫ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন নীতীশ কুমার। বৃহস্পতিবার পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে দশমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জেডিইউ সুপ্রিমো। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান।
এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা-সহ এনডিএ-শাসিত নানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
শপথের আগের দিন বিধানসভার সেন্ট্রাল হলে এনডিএ-র বৈঠকে ২০২ জন বিধায়কের সর্বসম্মত সমর্থনে নীতীশকে জোটনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। জেডিইউর পৃথক বৈঠকেও তাঁকে আইনসভা দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
এদিন নীতীশের পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা। সম্রাট চৌধুরীকে বিহার বিজেপির সংসদীয় দলনেতা ও বিজয় সিনহাকে উপদলনেতা করা হয়েছে। মোট ১৯ জন মন্ত্রী শপথ নেন—এর মধ্যে ১০ জনই বিজেপির, যা স্পষ্ট করে দেয় এনডিএ-তে এবারও ‘বিগ ব্রাদার’ ভূমিকা বিজেপির দখলেই। নীতীশের জেডিইউ থেকে শপথ নেন ৬ জন, আর চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি (আর), জিতন রাম মাঝির হাম ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএম পেয়েছে একটি করে মন্ত্রক।
আগে ঠিক হয়েছিল, প্রতি ছ’জন বিধায়কের জন্য একজন করে মন্ত্রী করা হবে। সেই সূত্র অনুযায়ী বিজেপির ১৫টি, জেডিইউর ১৩-১৪টি এবং এলজেপি(আর)-এর ৩টি মন্ত্রক পাওয়ার কথা ছিল। তবে শপথমঞ্চে সেই ফর্মুলা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খোলা থাকছে।
গত দুই দশকে কখনও আরজেডি আবার কখনও বিজেপির সঙ্গে জোট করে ৯ বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন নীতীশ। প্রথমবার সমতা পার্টির হয়ে মাত্র সাত দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসেছিলেন তিনি। তারপর থেকেই বিহারের রাজনীতির এক অপরিহার্য মুখ হয়ে ওঠেন নীতীশ কুমার।
দশম শপথগ্রহণে বৃহস্পতিবার সেই দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত হল আর-একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।
