তিন রাজ্যের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ পাড়ি দেওয়ার আগেই খোয়াই থানার পুলিশের জালে এক বাংলাদেশী নাগরিক! উদ্ধারকৃত মোবাইল ট্রেস করে দালাল চক্রের সন্ধানে পুলিশ!

গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ নভেম্বর || শীঘ্রই খোয়াই থানার পুলিশের জালে উঠতে পারে খোয়াই দিয়ে ভারত-বাংলা সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের অবৈধভাবে পাচারকার্যে যুক্ত দালাল চক্র। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ খোয়াই দূর্গানগর এলাকা থেকে এক বাংলাদেশী নাগরিককে জালে তুলে খোয়াই থানার পুলিশ। খোয়াই জেলা পুলিশের এক বিশেষ পুলিশ টিম এই অভিযানকে সফল করে তুলে। ধৃত বাংলাদেশী নাগরিক থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সূত্র ধরে খোয়াইয়ের গোটা দালাল চক্রকে জালে তুলতে শীঘ্রই মাঠে নামবে পুলিশ।
তিনটি রাজ্যের সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হলো খোয়াই শহরে। শনিবার খোয়াই দুর্গানগর এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে খোয়াই জেলার বিশেষ পুলিশ টিম। ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে এবার খোয়াই জুড়ে সক্রিয় দালাল চক্রকে ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে চলেছে পুলিশ।
খোয়াই থানায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানান, আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মো. সাগর ফারজি (৪০), পিতা মো. আওজাল ফারজি, বাড়ি খুলনা জেলার মোরলগঞ্জ থানার ধনসাগর গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম হয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করেন এবং এরপর খোয়াই সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে তাঁর যাত্রাপথ থেমে যায়।
জনগণের অভিযোগ, বাংলাদেশের নাগরিকরা দালাল চক্রের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অবাধে চলাচল করছে। মোটা টাকার বিনিময়ে দুই দেশের দালালরা তাদের পারাপারে সহায়তা করছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে এভাবে বারবার অনুপ্রবেশ ঘটছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যার ফলে মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে।
ধৃত সাগর ফারজির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক সূত্র পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সূত্র ধরে খোয়াইয়ের সক্রিয় চক্রকে ধরতে শীঘ্রই নতুন অভিযান শুরু হবে। খোয়াই শহর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে অবৈধ পারাপার হওয়ার অভিযোগও পুলিশের নজরে এসেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*