ত্রিপুরায় কমলা চাষে বিপ্লবের পথে রাজ্য — উদ্বোধন হলো ‘সেন্টার ফর ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ’, শুরু অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ নভেম্বর || পাহাড়ি অঞ্চলে কমলা চাষের বিস্তার, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং ফুল চাষে সম্ভাবনার দ্বার খুলতে উদ্যানপালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দপ্তর একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ আগরতলায় ‘সেন্টার ফর ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ’-এর উদ্বোধন করে এ কথা জানালেন দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ। একইসঙ্গে বাধারঘাট প্রোজেনি অর্চার্ডে রাজ্যস্তরের প্রথম ‘অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’-এর শুভ সূচনা করেন তিনি।
মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, “একটি দেশের শক্তিশালী ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৬ শতাংশ আসে কৃষকদের হাত ধরে। বহু বছর কৃষিকে উপেক্ষা করা হলেও এখন মানুষ আবার কৃষির দিকেই ফিরে আসছে।” তিনি জানান, জিরানিয়ার এক কৃষক মাল্টা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন এবং রাজ্যের নানা প্রান্তে মোসাম্বি ও ভিয়েতনামী মোসাম্বির চাষও শুরু হয়েছে।
কমলা উৎপাদন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগে সীমিত এলাকায় কমলা চাষ হলেও বর্তমানে জম্পুই হিলস, সাখাং, কিল্লা সহ একাধিক জায়গায় ব্যাপকভাবে কমলার বাগান গড়ে উঠছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কৃষকদের সহায়তায় একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি পরিবারে কর্মসংস্থান হোক। ত্রিপুরায় আগে পেঁয়াজ চাষের কথা ভাবাই হতো না। এখন কৃষি বিজ্ঞানীরা দেখিয়ে দিয়েছেন—এ রাজ্যে ভালো মানের পেঁয়াজ উৎপাদন পুরোপুরি সম্ভব। একইভাবে এআরসি আলুর চাষও শুরু হয়েছে এবং এর চাহিদা ব্যাপক।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ত্রিপুরায় কমলা চাষের আওতা ৩,৮৪৬ হেক্টর এবং মোট উৎপাদন ১৬,৫৩৮ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ৪,৩০০ কেজি। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে পশ্চিম ত্রিপুরার বড়মুড়া, খোয়াই, গোমতী এবং ধলাই জেলার সাখান পাহাড়ে নতুন করে কমলা চাষের এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০১৮–১৯ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫৩ হেক্টর নতুন জমিকে কমলা চাষের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরেই ৮০ হেক্টর নতুন বাগান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ২২৮ হেক্টর পুরনো বাগানের পুনরুজ্জীবন করা হয়েছে; চলতি বছরে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ৩১ হেক্টর বাগান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়িকা মীনা রানি সরকার, কৃষি ও কৃষককল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, কৃষক কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ফণিভূষণ জমাতিয়া এবং উদ্যানপালন দপ্তরের পরিচালক দীপক কুমার দাস।
ত্রিপুরার কৃষি উন্নয়নে এই উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*