সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৯ জানুয়ারি || ধলাই জেলার রাইমাভ্যালী বিধানসভা এলাকায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্যে চলে এল। দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গন্ডাছড়া মহকুমার সাইমা লজে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন দলের তিন প্রথম সারির নেতা।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাইমাভ্যালী ব্লক যুব কংগ্রেস সভাপতি বাদল সরকার, রাইমাভ্যালী এসসি কংগ্রেস চেয়ারম্যান কার্তিক মণ্ডল এবং ধলাই জেলা কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ মনোজ সরকার। একসঙ্গে তিন প্রভাবশালী নেতার পদত্যাগে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাদল সরকার সরাসরি দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দলের মধ্যে কাজ করার মতো সুস্থ পরিবেশ নেই। সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে তিনি বারবার অসহযোগিতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান নেতৃত্ব মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দলের হয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরও এভাবে উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি পদত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত কারণ ও নেতৃত্বের অসহযোগিতার কথাই তুলে ধরা হয়েছে, স্থানীয় সূত্রের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দলই এই গণ-পদত্যাগের মূল কারণ। কংগ্রেসে থেকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কার্যকরভাবে লড়াই করার সুযোগ ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছেন পদত্যাগকারী নেতারা।
আগামী দিনে তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বাদল সরকার জানান, মানুষের স্বার্থে কাজ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথাও তাঁরা বিবেচনা করছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
বাদল সরকারের মতো দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতার পদত্যাগে রাইমাভ্যালী এলাকায় কংগ্রেসের সংগঠনের উপর যে বড়সড় প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, বাদল সরকার সবসময় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বিদায় রাইমাভ্যালীতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
