দুশো বছরের প্রাচীন বটগাছকে ঘিরে হরিনাম সংকীর্তন, পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাসে খুশি এলাকাবাসী

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১১ জানুয়ারি || দুই শত বছরেরও বেশি পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী বটগাছকে কেন্দ্র করে এম আর দাস পাড়া-সহ আশপাশের একাধিক পাড়ার মানুষের উদ্যোগে এ বছরও মাঘ মাসের এক তারিখ হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার এলাকাবাসী মিলিতভাবে বটগাছ সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন।
এলাকার ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দরা জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের এক তারিখ এম আর দাস পাড়া, জয় কিশোর পাড়া, রমেশ কবিরাজ পাড়া, বিশ কার্ড, দূর্যোধন পাড়া-সহ বিভিন্ন পাড়ার শত শত মহিলা বটগাছের তলায় একত্রিত হয়ে হরিনাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় দুশো বছরের এই বিশালাকৃতির বটগাছটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ একটি বটগাছ থেকেই ধীরে ধীরে একাধিক বটগাছের সৃষ্টি হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিস্ময়ের কারণ।
এই বটগাছের তলায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। অনেকেই এখানে এসে মনের বাসনা করেন ও মানত দেন। বটগাছের নিচে একটি শিবলিঙ্গ ও একটি কালীমন্দির বিদ্যমান থাকলেও আজও সেখানে কোনও পূর্ণাঙ্গ মন্দির বা নাটমন্দির নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই গান-বাজনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে হয়, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
এই সমস্যাগুলি তুলে ধরে একটি নাটমন্দির নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল, পানীয় জলের ফিল্টার-সহ একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী ডুম্বুর নগর ব্লকের বিডিও-র কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। পরদিন বিডিও ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে বটগাছ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিন বিডিও এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, আপাতত গান-বাজনার জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং আধা-নির্মিত কালীমন্দিরটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নাটমন্দির-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় এস্টিমেট প্রস্তুত করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিডিও-র এই আশ্বাসে খুশি এলাকাবাসী। তাঁদের আশা, খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হলে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় কেন্দ্র আরও সুসংগঠিত ও সুবিধাজনক রূপ পাবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*