যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে তেলিয়ামুড়ায় স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪’তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১২ জানুয়ারি || সোমবার তেলিয়ামুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহাসমারোহে পালিত হলো ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মজয়ন্তী। তেলিয়ামুড়া বিবেকানন্দ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই মহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালবেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তিতে মাল্যদান, পূজা-অর্চনা ও অঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এই পর্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকবৃন্দ ও বিশিষ্ট অতিথিরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে স্বামীজির ত্যাগ, আদর্শ ও মানবতাবাদী দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে তেলিয়ামুড়া শহর জুড়ে এক বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৭৫ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই শোভাযাত্রা এবছর পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আরও সুসংগঠিত, নান্দনিক ও সমৃদ্ধ রূপ ধারণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা, দেশাত্মবোধক স্লোগান ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে তুলে ধরে। স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার বার্তা, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা ও দেশরক্ষায় তাদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র শোভাযাত্রা।
এছাড়াও শোভাযাত্রায় কীর্তন ও গীতা পাঠ, বিহু উৎসব এবং মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লুট কীর্তনের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এই সকল সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক রূপ দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা মত প্রকাশ করে বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা, মানবতাবাদী দর্শন ও আত্মবিশ্বাসের বাণী নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই আয়োজনের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ, দেশপ্রেম ও মানবসেবার বার্তা নতুন করে জাগ্রত হলো বলেই মনে করছেন সকলেই।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*