গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ জানুয়ারি || সময়ের স্রোতে বদলে যাচ্ছে উৎসবের রং ও রূপ। বইমেলার মঞ্চ থেকে সরস্বতী বন্দনা, আবার তার পাশেই ডিজে সাউন্ডের তালে উচ্ছ্বাস—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে আজকের সমাজ। বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণে আধুনিকতার নামে যেখানে ক্রমশ অপসংস্কৃতির ছায়া ঘনাচ্ছে, সেখানে কিছু কিছু ঐতিহ্য এখনও অমলিন, অটুট ও জীবন্ত। বুড়ি ঘর আর মকরসংক্রান্তি তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
ত্রিপুরা রাজ্যে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আজও কমেনি। আজ বেলা গড়াতেই খোয়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় কীর্তনীয়া দল হাতে খোল, কণ্ঠে ভক্তির সুর তুলে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পড়েন। তাঁদের পেছনে পেছনে ভক্তিকামী মানুষের ঢল—কেউ লুট ধরছেন, কেউ গলায় মিলিয়ে নিচ্ছেন নামসংকীর্তন। আট থেকে আশি, বয়সের কোনও ভেদাভেদ নেই; সকলেই এক স্রোতে মিলিত।
খোয়াইয়ে এই চিরাচরিত প্রথা আজও গভীর নিষ্ঠা ও আবেগের সঙ্গে ধরে রেখেছেন ধর্ম ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। আধুনিকতার ঝাঁপটায় যখন বহু উৎসব কেবল আড়ম্বরেই সীমাবদ্ধ, তখন এই কীর্তনধারা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় শিকড়ের টান, লোকসংস্কৃতির প্রাণশক্তি আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে চলা বিশ্বাসের ধারাবাহিকতা।
