প্রবীণদের ডিজিটাল পেমেন্ট নিরাপত্তায় সচেতনতা বাড়াচ্ছে এনপিসিআই

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ ফেব্রুয়ারী || ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা বর্তমানে প্রবীণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাজার-সদাই, ওষুধ কেনা কিংবা ভ্রমণের বুকিং—সব ক্ষেত্রেই সহজ, দ্রুত ও নগদবিহীন লেনদেন তাদের স্বনির্ভরতা বাড়িয়েছে। নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমায় নিরাপত্তাও বেড়েছে, পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকায় আর্থিক নিয়ন্ত্রণও সহজ হয়েছে। তবে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার প্রতারণার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন বহু প্রবীণ নাগরিক।
এই প্রেক্ষাপটে National Payments Corporation of India (এনপিসিআই) প্রবীণ নাগরিকদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে উদ্যোগ জোরদার করেছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রতারকেরা বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভুয়া পরিচয় দিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আবার কোথাও আর্থিক বিশেষজ্ঞ সেজে অবাস্তব মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইমেল, এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে লগইন তথ্য, ওটিপি বা পিন সংগ্রহের ঘটনাও বাড়ছে। প্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে ডিভাইসে ভাইরাসের অজুহাতে রিমোট অ্যাক্সেস নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটার রিফান্ড বা ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ভুয়া লিঙ্ক পাঠিয়ে তথ্য চুরির ঘটনাও ঘটছে।
এনপিসিআই-এর পক্ষ থেকে প্রবীণ নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইউপিআই পিন, ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো সংবেদনশীল তথ্য কখনও কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। অচেনা নম্বর বা সন্দেহজনক সূত্র থেকে পাওয়া লিঙ্কে ক্লিক করা কিংবা অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো বিনিয়োগের প্রস্তাব অস্বাভাবিক রকম লাভজনক মনে হলে তা যাচাই না করে গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিনিয়োগের আগে Securities and Exchange Board of India (সেবি), Reserve Bank of India (আরবিআই) বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, “অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে”, “কেওয়াইসি আপডেট না করলে পরিষেবা বন্ধ হবে” কিংবা “পেনশন স্থগিত করা হবে”—এ ধরনের বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীদের তাড়াহুড়ো করানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে অবিলম্বে ১৯৩০ নম্বরে জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক বার্তা ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, ধৈর্য এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে প্রবীণ নাগরিকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*