গোপাল সিং, খোয়াই, ২২ ফেব্রুয়ারী || খোয়াই জেলার বাইজালবাড়ি এলাকায় শনিবার রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। জনগণের একাংশের মতে, আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতায় আজ জাতীয় সড়কের উপর বড়ো ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারতো বলে জনগণের অভিমত। খোয়াই-আগরতলা সড়কে আজ নিত্যদিনের যাত্রীদেরও চরম সঙ্কটে পড়তে হতো। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারতো বলেই জনগণপর অভিমত।
সূত্রের খবর, রাজ্যের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা-র উপস্থিতিতে বিজেপির একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি ও বাইক র্যালি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় হঠাৎই রণজিৎ দেববর্মা, বিধায়ক, তিপ্রামথা পার্টি, দলীয় কর্মীদের নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। তাঁদের দাবি ছিল বিজেপির জনজাতি মোর্চার নেতা প্রসেনজিৎ দেববর্মা-কে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ।
মথা সমর্থকদের স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে বিজেপির কর্মসূচিও চলতে থাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর মেলেনি, তবে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি থমথমে ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং জেলা পুলিশ সুপার রাণাদিত্য দাস নিজেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসু।
এদিকে ঘটনার আগের দিন করবুকের এক দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা মথাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি বিজেপির সঙ্গে মতপার্থক্য থাকে তবে রাস্তায় অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জোট সরকার থেকে সরে যাওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য জোটসঙ্গী দুই দলের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। অন্যদিকে নাম উল্লেখ না করেই মথার এক জনপ্রতিনিধিকে কটাক্ষ করেন বিপিন দেববর্মা, প্রদেশ বিজেপি সাধারণ সম্পাদক।
সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াই জেলায় বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
