গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ ফেব্রুয়ারী || বিশ্বের একাধিক দেশে—যেমন অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও চীন—নাবালকদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
ত্রিপুরা রাজ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যমকে কেন্দ্র করে নানা পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ক, পালিয়ে যাওয়া ও অল্প বয়সে বিয়ের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নানা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, ফলে সচেতন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে এক সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে মিনা দেববর্মা, ওসি, খোয়াই মহিলা থানা, জানান যে ৯ ফেব্রুয়ারি এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি মিসিং ডায়েরি নথিভুক্ত হয় (কেস নং 2026WKH003, ধারা ৮৭/১২৭(৪), BNS ২০২৩)। পরবর্তীতে খোয়াই জেলা পুলিশের স্পেশাল সিভিল টিম ও মহিলা থানার যৌথ প্রচেষ্টায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ওসি মিনা দেববর্মা সমাজের সকল অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু-কিশোরদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে পড়াশোনার জন্য মোবাইল ব্যবহার করতে হলেও যথাযথ নজরদারি ও ‘কিড-স্পেস’ বা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফিচার সক্রিয় রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে অভিভাবকদের সজাগ ও সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রযুক্তি যেমন উপকার বয়ে আনে, তেমনি অসতর্ক ব্যবহারে বিপদের কারণও হতে পারে।”
