জিবিপি হাসপাতালে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সূচনা, উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৫ মার্চ || ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে চালু হল একাধিক অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ট্রমা কেয়ার সেন্টার ও ট্রমা অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে ১৬ শয্যা বিশিষ্ট রেসপিরেটরি জেরিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এবং আন্তর্জাতিক মানের গাইনো অপারেশন কমপ্লেক্সেরও সূচনা করা হয়।
এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষের স্বার্থেই উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি জানান, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে ১৬ শয্যার রেসপিরেটরি জেরিয়াট্রিক আইসিইউ, একই ছাদের তলায় প্রসূতি মায়েদের জন্য অপারেশন থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা প্রদান এবং ট্রমা ওটি সেন্টারের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে এখন সুপার স্পেশালিটি চিকিৎসা পরিষেবা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তবে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আরও আস্থা বাড়িয়ে তুলতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জিবি হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬-এ। ভবিষ্যতে তা ৩২৬-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একইভাবে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৭০০ থেকে বেড়ে এখন ১৪০০-রও বেশি হয়েছে। বর্তমানে এখানে ৯টি সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা চালু রয়েছে এবং আগামী দিনে তা আরও বাড়ানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১০০ শয্যার ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতাল’ নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়াও হাপানিয়া জুটমিল গ্রাউন্ডে বেসরকারি উদ্যোগে আরও একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে ‘সৃজা হাসপাতাল’ও তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আগরতলা নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোমতী জেলায় শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক কলেজ স্থাপন এবং কুলাই এডিসি এলাকায় একটি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় একটি ‘হেলথ ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়িকা ও জিবি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন মিণা রাণী সরকার, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে, আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন মজুমদার, মেডিকেল সুপার বিধান গোশ্বামী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*