গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ মার্চ || খোয়াই জেলার পশ্চিম চেবরি এলাকায় এক দিনমজুর পরিবারের দুই পুত্র থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ দিনমজুর পিতার। রক্ত পাল্টানোর পরামর্শ মিললেও, আর্থিক সাহায্য মিলেনি এখনও। আর্থিক অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায় হয়ে পুনরায় রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন দিনমজুর পিতা রঞ্জন রায়।
রঞ্জন রায় জানান, বড় ছেলে সত্যজিৎ রায়ের শরীরে ২০১০ সালে প্রথম এই জটিল রোগ ধরা পড়ে। পরে ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে ছোট ছেলে রুদ্রনীল রায়েরও একই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে একসঙ্গে দুই সন্তানের চিকিৎসার ভার বহন করা রঞ্জন রায়ের পক্ষে ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালে উন্নত চিকিৎসার আশায় সত্যজিৎকে দিল্লির সর্বভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে শারীরিক দুর্বলতার কারণে বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ছোট ছেলের অবস্থাও প্রায় একই— দুজনেই এখন অধিকাংশ সময় শয্যাশায়ী।
পেশায় দিনমজুর রঞ্জন রায় ইতিমধ্যে স্থানীয় বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা হারাননি রঞ্জন রায়। তাঁর বিশ্বাস, সরকারের সহায়তা পেলে দুই সন্তানকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তিনি পুনরায় রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। মানবিক এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এখন নজর রয়েছে— প্রশাসন ও সরকার কত দ্রুত এগিয়ে এসে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।
