‘যাদের পাশে কেউ নেই, তাদের পাশে পুলিশ’: খোয়াই থানার ওসি’র তত্বাবধানে ৫ জন ভবঘুরেদের উদ্ধার করে নরসিংগড়ে পুনর্বাসনের জন্য প্রেরণ

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ মার্চ || সমাজের প্রান্তিক ও উপেক্ষিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক উদ্যোগের নজির গড়ল খোয়াই পুলিশ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অসহায়ভাবে দিন কাটানো ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তাঁদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আগরতলার নরসিংগড়স্থিত সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার এবং এসআই দেবপ্রসাদ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মোট পাঁচজন ভবঘুরে ব্যক্তিকে শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নরসিংগড়ে প্রেরণ করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে, তাদের বিবরণ অনুযায়ী—
২১ মার্চ ২০২৬: সেন্টু দেব রায় (৩২), পিতা সুনীল দেব রায়, ঠিকানা অফিস টিলা, খোয়াই থানা।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সুমন ভট্টাচার্য (৩০), পিতা সম্ভু ভট্টাচার্য, ঠিকানা অফিস টিলা, খোয়াই থানা।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রঞ্জন তান্তি (৩০), পিতা জগবন্ধু তান্তি, ঠিকানা বৃন্দাবনঘাট, খোয়াই থানা।
৬ জুন ২০২৫: অরূপ দাস (২৯), পিতা দুলু দাস, ঠিকানা গৌরাঙ্গ টিলা, কল্যানপুর থানা এলাকা।
২২ মার্চ ২০২৬: ভগবান (পরিচয় অজ্ঞাত)।
খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত জীবনে দিন কাটানো এইসব মানুষদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। কেউ পারিবারিক ভাঙন, কেউ মানসিক সমস্যায়, আবার কেউ নেশার কবলে পড়ে এমন অবস্থার শিকার হয়েছেন। অথচ তাঁদের জন্য সরকারি স্তরে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে—প্রয়োজন শুধু সঠিক উদ্যোগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, খোয়াইয়ে বহু সামাজিক সংস্থা ও ক্লাব থাকলেও সারা বছর এ ধরনের মানবিক কাজে তাদের সক্রিয়তা তেমন চোখে পড়ে না। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই উদ্যোগ সমাজের তথাকথিত সচেতন মহলের কাছেও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
এই ঘটনার পর খোয়াই পুলিশের এই মানবিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এমন উদাহরণ ভবিষ্যতে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*